News Ticker
221.png

১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের ভূমিকম্প ইন্দোনেশিয়ায়, মাত্রা ৬ দশমিক ৯

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৪২

শেয়ার

শেয়ার

১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের ভূমিকম্প ইন্দোনেশিয়ায়, মাত্রা ৬ দশমিক ৯
ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে পূর্ব ইন্দোনেশিয়ায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশটি। এবার ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে উত্তর সুমাত্রা অঞ্চলে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল পেমাতাংসিয়ানতার শহরের প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে।

শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টা ৫৪ মিনিটের দিকে উত্তর সুমাত্রায় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর গভীরতা ছিল প্রায় ১৮৩ কিলোমিটার। প্রথম ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে এটি হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে হওয়ায় এটিকে প্রথম ভূমিকম্পের সাধারণ আফটারশক হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

পরপর দুই প্রান্তে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় ইন্দোনেশিয়াজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে উত্তর সুমাত্রার এই ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি, হতাহত বা অবকাঠামো ধ্বংসের খবর পাওয়া যায়নি।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল এন্ডে শহরের উত্তর-উত্তরপশ্চিমে সমুদ্রের কাছে।

ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে অন্তত ৫১ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধসে পড়া ভবন, ভূমিধস এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।

৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। পরে সমুদ্রপৃষ্ঠে বড় ধরনের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের প্রমাণ না পাওয়ায় সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। তবে কিছু এলাকায় ছোট আকারের ঢেউ রেকর্ড হয়েছিল।

উত্তর সুমাত্রায় পরবর্তী ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নতুন সুনামি সতর্কতার খবর পাওয়া যায়নি।

ফ্লোরেস অঞ্চলে প্রথম ভূমিকম্পের পর এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। বহু এলাকায় ভূমিধসের কারণে সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারীরা দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

প্রথম ভূমিকম্পের পর শত শত আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অনেক মানুষ নতুন করে কম্পনের আশঙ্কায় বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন এবং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বা খোলা জায়গায় অবস্থান করছেন।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে বিভিন্ন টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ ও ভূগর্ভস্থ সক্রিয় ফল্টের কারণে নিয়মিত ভূমিকম্প হয়।

সাম্প্রতিক ঘটনাও দেশটির ভূমিকম্পঝুঁকির ভয়াবহতা নতুন করে সামনে এনেছে। ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি বর্তমানে ২০২২ সালের পশ্চিম জাভার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer