News Ticker
221.png

পাকিস্তান ও চীনকে মোকাবিলায় ছয় সাবমেরিন কিনছে ভারত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ২১:২৯

শেয়ার

শেয়ার

পাকিস্তান ও চীনকে মোকাবিলায় ছয় সাবমেরিন কিনছে ভারত
ছবি: সংগৃহীত

ভারত মহাসাগরে চীন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সাবমেরিন তৎপরতার মধ্যে নিজেদের নৌবাহিনীর পানির নিচের সক্ষমতা বাড়াতে ছয়টি অত্যাধুনিক প্রচলিত সাবমেরিন সংগ্রহের উদ্যোগ জোরদার করেছে ভারত। জার্মানির প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারতে এসব সাবমেরিন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি Project-75I নামে পরিচিত।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও জার্মানির মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্য চুক্তির মূল্য প্রায় ৭০ হাজার কোটি ভারতীয় রুপি বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে আগের বিভিন্ন হিসাবে প্রকল্পটির ব্যয় আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।

ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য পানির নিচের যুদ্ধক্ষমতা এখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারত মহাসাগর ও আরব সাগরে চীনা নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ছে। একই সময়ে পাকিস্তানও চীনের সহায়তায় নিজেদের সাবমেরিন বহর আধুনিক করছে।

পাকিস্তান ইতোমধ্যে চীনের তৈরি Hangor-class সাবমেরিনের প্রথমটি কমিশন করেছে। দেশটি মোট আটটি এ ধরনের সাবমেরিন সংগ্রহের কর্মসূচিতে রয়েছে। ফলে ভারতের জন্য নিজেদের প্রচলিত সাবমেরিন সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

Project-75I-এর আওতায় সাবমেরিনগুলো ভারতের মাটিতে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। জার্মান প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ThyssenKrupp Marine Systems (TKMS) এই প্রকল্পে প্রযুক্তিগত অংশীদার হিসেবে রয়েছে।

প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো Air-Independent Propulsion (AIP) প্রযুক্তি। সাধারণ ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনের তুলনায় AIP প্রযুক্তি ব্যবহারকারী সাবমেরিন দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করতে পারে। ফলে শত্রুর নজর এড়িয়ে দীর্ঘ সময় টহল ও অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

ভারতের এই উদ্যোগের পেছনে চীন ও পাকিস্তানের নৌ সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাকিস্তান চীনের কাছ থেকে আটটি Hangor-class সাবমেরিন সংগ্রহ করছে। ২০২৬ সালে প্রথম সাবমেরিনটি পাকিস্তানি নৌবাহিনীতে কমিশন করা হয়েছে। চুক্তির আওতায় কয়েকটি সাবমেরিন চীনে এবং বাকিগুলো পাকিস্তানে নির্মাণের কথা রয়েছে।

অন্যদিকে চীনের নিজস্ব নৌবাহিনী দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ভারত মহাসাগরেও চীনা নৌ উপস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভারত শুধু সাবমেরিন সংগ্রহ নয়, সমুদ্রের তলদেশে নজরদারি ব্যবস্থাও গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।

ভারতের বর্তমান প্রচলিত সাবমেরিন বহরের বড় একটি অংশ পুরোনো হয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে নতুন সাবমেরিন সংগ্রহের বিভিন্ন প্রকল্প বিলম্বিত হওয়ায় নৌবাহিনীর পানির নিচের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

Project-75I বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় নৌবাহিনী নতুন প্রজন্মের সাবমেরিন পাবে। এর ফলে আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও টহল সক্ষমতা বাড়বে।

ভারতের বৃহত্তর পরিকল্পনায় ভবিষ্যতে আরও সাবমেরিন যুক্ত করার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার ছয়টির পরিবর্তে নয়টি নতুন প্রচলিত সাবমেরিন নিয়ে পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় পানির নিচের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাবমেরিন শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা DRDO সমুদ্রের তলদেশে ফাইবার-অপটিকভিত্তিক নজরদারি নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর লক্ষ্য ভারতীয় জলসীমা ও আশপাশের এলাকায় সাবমেরিনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা।

ভারতের সাবমেরিন আধুনিকীকরণ শুধু প্রচলিত সাবমেরিনে সীমাবদ্ধ নয়। দেশটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন সক্ষমতাও সম্প্রসারণ করছে।

ভারতের Arihant শ্রেণির ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিনগুলো দেশটির পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পারমাণবিক শক্তিচালিত আক্রমণাত্মক সাবমেরিন বা SSN তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, Project-75I ভারতের নৌবাহিনীর জন্য শুধু একটি অস্ত্র কেনার প্রকল্প নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি সামুদ্রিক কৌশলের অংশ। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের নৌ উপস্থিতি এবং পাকিস্তানের চীনা সাবমেরিন সংগ্রহের প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্পের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

সূত্র: বিসনেস টাইমস 

ChannelNRB Footer