ভারতের স্বাধীনতা দিবসের রাতে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায় কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ২৪ বছর বয়সী ছেলে আবু সুফিয়ানকে গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত প্রায় ৯টার দিকে নাকাশিপাড়া এলাকায় নাগাদি রেলগেটের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে একটি চারচাকার গাড়িতে করে বেথুয়াদহরি থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। নাগাদি রেলগেটের কাছে পৌঁছালে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের গাড়ির গতিরোধ করে। এরপর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। হামলাকারীরা পরে বাবা-ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে। ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আনিসুর রহমান পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস কমিটির সদস্য এবং নদিয়া জেলা কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি নাকাশিপাড়া ব্লক কংগ্রেসের সাবেক সভাপতিও ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন এবং কৃষ্ণনগর জজেস কোর্টে প্র্যাকটিস করছিলেন বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার ধরন দেখে তদন্তকারীরা এটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং পরে বাবা-ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে। গাড়ির সামনের কাচে একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আনিসুর রহমানের ছেলে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করায় তাঁকেও পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে—এমন অভিযোগও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে উঠেছে। তবে এটি এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে বলে স্থানীয় কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, এলাকায় কংগ্রেসের সাংগঠনিক প্রভাব বাড়ছিল এবং আনিসুর রহমান এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। সেই কারণেই তিনি হামলাকারীদের টার্গেট হয়ে থাকতে পারেন বলে দলটির নেতারা দাবি করেন।
তবে পুলিশ এখনো হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। রাজনৈতিক বিরোধসহ সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলা তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে হরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ফতেমা বিবি রয়েছেন। অন্য দুজন হলেন সাহেব শেখ ও মিঠু শেখ—এমন তথ্য জানিয়েছে দ্য স্টেটসম্যান। আদালত তিনজনকেই নয় দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।
জোড়া হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রোববার পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ‘ব্ল্যাক ডে’ বা কালো দিবস পালন করেছে কংগ্রেস। দলটি ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করে দ্রুত তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে।
কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে নৃশংস বলে উল্লেখ করে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন:







