আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরবে এক সপ্তাহে ১৪ হাজার ১৫৪ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। একই অভিযানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১২ হাজার ৬১৩ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত ২৩ থেকে ২৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে যৌথ অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ১৪ হাজার ১৫৪ জনের মধ্যে—
-
৭ হাজার ১০৩ জন আবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে;
-
৩ হাজার ৬৫৪ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে;
-
৩ হাজার ৩৯৭ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এ ছাড়া সৌদিতে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আরও ১ হাজার ৪১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। দেশটির বাইরে অবৈধ পথে বের হওয়ার চেষ্টা করার সময়ও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
এক সপ্তাহের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে ১২ হাজার ৬১৩ জনকে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ, গ্রেপ্তার হওয়া সবাইকে তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরত পাঠানো হয়নি; সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বহিষ্কার করা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে আবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করে আসছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে এসব অভিযান চালায়।
শুধু সৌদিতে অবস্থানরত অবৈধ প্রবাসীরাই নয়, দেশটির সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধেও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অভিযানের সময় অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগে ১ হাজার ৪১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে অবৈধ পথে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টার অভিযোগেও কয়েকজনকে আটক করা হয়।
সৌদি আরবে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের পরিবহন, আশ্রয়, চাকরি বা অন্য কোনোভাবে সহায়তা করার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ বারবার সতর্ক করে জানিয়েছে, অবৈধভাবে প্রবেশ বা অবস্থানে সহায়তা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর শাস্তির বিধান রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানার মতো শাস্তিও থাকতে পারে।
সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী বসবাস ও কাজ করছেন। ফলে আবাসন অনুমতিপত্র, কাজের অনুমতি, নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তি এবং সীমান্তসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ ইকামা, অনুমোদন ছাড়া কাজ, নিয়োগকর্তা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিয়ম না মানা কিংবা অবৈধভাবে প্রবেশ ও অবস্থানের মতো বিষয়গুলো সৌদি আইনে গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে সর্বশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সবাই কোন দেশের নাগরিক—এ বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কোনো জাতীয়তার সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তাই তাদের সবাইকে বাংলাদেশি প্রবাসী হিসেবে দাবি করার সুযোগ নেই।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিয়মিত এসব অভিযানের মাধ্যমে অবৈধভাবে বসবাস ও কাজ করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সৌদি সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কারণে দেশটিতে থাকা প্রবাসীদের বৈধ কাগজপত্র, ইকামা ও কর্মসংক্রান্ত অনুমতি হালনাগাদ রাখার ওপর নতুন করে গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
আরও পড়ুন:







