হাঙ্গেরিতে তীর্থযাত্রীবাহী একটি বাস সড়ক থেকে ছিটকে খাদে পড়ে উল্টে গেলে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতরা সবাই পোল্যান্ডের নাগরিক বলে জানিয়েছে হাঙ্গেরীয় কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১৬ আগস্ট) ভোররাতে হাঙ্গেরির পূর্বাঞ্চলে মেজোকারেস্তেশের (Mezőkeresztes) কাছে এম৩ মোটরওয়েতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টার দিকে পোলিশ নিবন্ধনযুক্ত বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে পোল্যান্ডের পডকারপাকিয়ে (Podkarpackie) অঞ্চল থেকে যাওয়া ৫৭ জন যাত্রী ও দুই চালক ছিলেন। তারা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মেদজুগোরিয়েতে (Medjugorje) ধর্মীয় তীর্থযাত্রা শেষে দেশে ফিরছিলেন।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। কয়েকজন যাত্রী বাসটির নিচে আটকা পড়েছিলেন। উদ্ধারকারীরা ভারী সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাদের বের করে আনেন। আহতদের হাঙ্গেরির বিভিন্ন শহরের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে হাঙ্গেরীয় পুলিশ ধারণা করছে, চালক গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়ার কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে থাকতে পারে। দুর্ঘটনার পর বেঁচে যাওয়া চালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরির শীর্ষ পর্যায় থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগিয়ারও নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি উদ্ধারকর্মীদের প্রশংসা করেছেন।
দুর্ঘটনার কারণ ও বাসটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পোল্যান্ডের কনস্যুলার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হাঙ্গেরীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের প্রক্রিয়াও চলছে।
এ দুর্ঘটনা ইউরোপে তীর্থযাত্রীবাহী বাসের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও গাড়ি পরিচালনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







