ভয়াবহ ভূমিকম্পের কয়েক দিনের মধ্যেই ফের শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চল। সোমবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোরে ফ্লোরেসের কাছে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (GFZ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।
নতুন এই কম্পনটি এমন এক সময়ে আঘাত হানল, যখন কয়েক দিন আগে একই অঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির উদ্ধারকারী ও ত্রাণকর্মীরা। সোমবারের নতুন ভূমিকম্পটি আগের শক্তিশালী কম্পনের পরবর্তী কম্পন বা আফটারশক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত নতুন কম্পনে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের নতুন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
গত শনিবার ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কেন্দ্র ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে এলাকার উত্তর-পশ্চিমে এবং ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাত্র প্রায় ১০ কিলোমিটার। শক্তিশালী কম্পনে ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ধসের সৃষ্টি হয় এবং বেশ কয়েকটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সোমবার পর্যন্ত ওই ভূমিকম্পে অন্তত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৩৫ জনের বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৩০০টিরও বেশি বাড়িঘর। কয়েক হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
৭ দশমিক ৭ মাত্রার মূল ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস অঞ্চলে একের পর এক আফটারশক অনুভূত হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এসব কম্পনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
অনেক বাসিন্দা ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায় ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছাতেও সমস্যার মুখে পড়ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভূমিধস ও যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতির কারণে কিছু এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। খাবার, পানি, তাঁবু ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজ বা আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিপুলসংখ্যক সেনা ও পুলিশ সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে ভূমিকম্পের প্রবণতা অত্যন্ত বেশি। সাম্প্রতিক ধারাবাহিক কম্পন পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
সোমবারের ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও, আগের ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লোরেস অঞ্চলে নতুন আফটারশক অব্যাহত থাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: মিন্ট
আরও পড়ুন:







