News Ticker
221.png

ভূতের' আতঙ্কে হোস্টেল ছাড়লো ৬০০ শিক্ষার্থী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৪৯

শেয়ার

শেয়ার

ভূতের' আতঙ্কে হোস্টেল ছাড়লো ৬০০ শিক্ষার্থী
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলার একটি সরকারি আদিবাসী আবাসিক বিদ্যালয়ে ‘ভূতের’ গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর আতঙ্কে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী হোস্টেল ছেড়ে বাড়ি চলে গেছে। তবে কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক মূল্যায়নে অতিপ্রাকৃত কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং শিক্ষার্থীদের ভয়, মানসিক চাপ ও কুসংস্কারের প্রভাবেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২২ জুলাই। অমরাবতীর মেলঘাট অঞ্চলের চিকলদারা তালুকের ডোমা গ্রামের ওই আবাসিক বিদ্যালয়ের চার ছাত্রী হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। তারা কখনো অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁদছিল, আবার কখনো হাসছিল।

এরপর শিক্ষার্থীদের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ওই ছাত্রীদের ‘ভূতে ধরেছে’। কয়েকজন শিক্ষার্থী রাতে হোস্টেলে নূপুরের মতো শব্দ শোনার দাবিও করে। ধীরে ধীরে আতঙ্ক পুরো আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৮১০ জন ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী থাকত। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জন হোস্টেল ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যায়।

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে অমরাবতী জেলা হাসপাতালের একটি মানসিক স্বাস্থ্য দল বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে। তদন্তে ছয় ছাত্রীকে পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে দীর্ঘসময় কান্না, ভয়, বিষণ্নতা, স্মৃতিভ্রংশ এবং শারীরিক ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা গেছে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, এটি কোনো অতিপ্রাকৃত ঘটনা নয়। ভয়, মানসিক চাপ, সামাজিক প্রভাব ও কুসংস্কারের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হিস্টেরিয়া বা মাস সাইকোজেনিক ইলনেস-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা ধরনের কুসংস্কারও ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিদ্যালয় এলাকায় থাকা একটি মহুয়া গাছ কেটে ফেলার পর থেকেই অস্বাভাবিক ঘটনা শুরু হয়েছে।

আরেকটি গুজব ছড়ায়, বিদ্যালয়ের পানি নিষ্কাশনের নালা নির্মাণের কারণে স্থানীয় একটি দেবতার মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে দেবতা অসন্তুষ্ট হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর ‘অলৌকিক’ প্রভাব ফেলছেন বলেও কেউ কেউ বিশ্বাস করতে শুরু করেন।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের কাছাকাছি এক আদিবাসী তরুণের মৃত্যুর ঘটনাকেও ভূতের গুজবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তবে এসব দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আতঙ্ক দূর করতে শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। কুসংস্কারবিরোধী সংগঠন মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতির সদস্যরাও বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ঘটনাটিকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

অমরাবতীর সংসদ সদস্য বলবন্ত ওয়াংখাড়ে শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত না হয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় চৌধুরীও জানিয়েছেন, কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী হোস্টেলে ফিরেছে।

কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, হোস্টেলে কোনো অতিপ্রাকৃত ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চিকিৎসা সহায়তা, কাউন্সেলিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

ChannelNRB Footer