ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানির ব্যক্তিগত কার্যালয় লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলায় ব্যবহৃত দুটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ইরানের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।
সোমবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় মধ্যরাতের পর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী ইরবিলের কাছে পিরামাম এলাকায় এ হামলা হয়। কুর্দিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী অধিদপ্তর জানিয়েছে, দুটি হাদিদ-১১০ ধরনের ড্রোন প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানির ব্যক্তিগত কার্যালয় এবং কুর্দিস্তান অঞ্চলের গোয়েন্দা সংস্থা পারাস্তিনের পরিচালকের বাসভবন লক্ষ্য করে পাঠানো হয়।
কুর্দিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২৮ মিনিটের দিকে ইরান সীমান্তের ওপার থেকে ড্রোন দুটি উৎক্ষেপণ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, তদন্তে তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয় এবং কুর্দিস্তান অঞ্চলের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের বাসভবন ইরানি ড্রোন হামলার লক্ষ্য ছিল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তবে হামলার বিষয়ে ইরান এখন পর্যন্ত কোনো দায় স্বীকার করেনি। রয়টার্স এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার জন্য কোনো গোষ্ঠীও তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব দাবি করেনি।
হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলায় লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
হামলার পর মাসরুর বারজানি ঘটনাটিকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ এবং কুর্দিস্তান অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের হামলা সরকারের কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা বেড়েছে। ইরবিল ও আশপাশের এলাকায় মার্কিন স্থাপনা, নিরাপত্তা অবকাঠামো এবং জ্বালানি খাতের স্থাপনাও এর আগে হামলার লক্ষ্য হয়েছে।
সোমবারের হামলাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এবার সরাসরি কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কার্যালয় এবং একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বাসভবনকে লক্ষ্য করা হয়েছে।
কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার দীর্ঘদিন ধরে ইরাকের চলমান আঞ্চলিক সংঘাত থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মাসরুর বারজানি হামলাকে কুর্দিস্তানের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, হামলার পেছনে ইরানের সরাসরি ভূমিকা ছিল—কুর্দিস্তান কর্তৃপক্ষের এই দাবির বিষয়ে তেহরানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







