ইতালির সিসিলি দ্বীপের মেসিনা শহরের একটি জাদুঘর থেকে রেনেসাঁ যুগের চারটি মূল্যবান চিত্রকর্ম চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া শিল্পকর্মগুলো ১৫ শতকের বিখ্যাত ইতালীয় চিত্রশিল্পী আন্তোনেল্লো দা মেসিনা-র সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে, শিল্পকর্মগুলোর মূল্য কয়েক কোটি ইউরো হতে পারে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে মেসিনার মিউজিও রিজিওনালে দি মেসিনা (MuMe) জাদুঘরে এ চুরির ঘটনা ঘটে। ওই সময় শহরে ‘ফেরাগোস্তো’ উপলক্ষে ব্যাপক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, শহরের উৎসবমুখর পরিবেশ ও বিপুল জনসমাগমের সুযোগ নিয়েই চোরেরা জাদুঘরে ঢোকে।
চোরেরা ‘পলিপটিকো দি সান গ্রেগোরিও’ নামের ১৪৭৩ সালের বিখ্যাত বেদিচিত্রের পাঁচটি কাঠের প্যানেলের মধ্যে তিনটি নিয়ে গেছে। বাকি দুটি প্যানেল পালানোর সময় জাদুঘরের বাইরে ফেলে যায়।
এ ছাড়া একটি ছোট দ্বিমুখী ধর্মীয় চিত্রও চুরি হয়েছে। এর এক পাশে রয়েছে ভার্জিন মেরি ও শিশু যিশু এবং একজন ফ্রান্সিসকান সন্ন্যাসী, অন্য পাশে রয়েছে ক্রাইস্ট ইন পিয়েতা।
সান গ্রেগোরিওর বেদিচিত্রটি মূলত মেসিনার একটি স্থানীয় মঠের জন্য তৈরি করেছিলেন আন্তোনেল্লো দা মেসিনা। ১৯০৮ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে মঠটি ধ্বংস হওয়ার পর এর অবশিষ্ট অংশগুলো সংরক্ষণ করা হয়।
ইতালির সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, রাত প্রায় ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে চোরেরা জাদুঘরে ঢোকে। তারা নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে শিল্পকর্মগুলো নিয়ে পালাতে সক্ষম হয়। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ পরে বিষয়টি জানতে পারে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
চুরির ঘটনায় মেসিনা শহরের কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সংস্কৃতিবিষয়ক কাউন্সিলর এনজো কারুসো ঘটনাটিকে অত্যন্ত পরিকল্পিত বলে মনে করছেন। তাঁর ধারণা, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তোনেল্লো দা মেসিনার একটি চিত্রকর্ম বিপুল অর্থে বিক্রি হওয়ার খবর অপরাধীদের জাদুঘরটির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে চুরি হওয়া শিল্পকর্মগুলোর সম্মিলিত মূল্য ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শিল্পকর্মগুলোর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব আর্থিক মূল্যের চেয়েও বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তোনেল্লো দা মেসিনা ইউরোপীয় রেনেসাঁ শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিত্রশিল্পী। তাঁর কাজের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় প্রতিটি সংরক্ষিত শিল্পকর্মই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিল্পকর্মগুলো অত্যন্ত পরিচিত হওয়ায় বৈধ আন্তর্জাতিক শিল্পবাজারে এগুলো বিক্রি করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন শিল্প-অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। ফলে তদন্তকারীদের ধারণা, এগুলো কোনো ব্যক্তিগত সংগ্রহের জন্য চুরি করা হয়ে থাকতে পারে অথবা অপরাধী চক্রের কাছে গোপনে ব্যবহৃত হতে পারে।
ইতালির সংস্কৃতিমন্ত্রী আলেসান্দ্রো জিউলি এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট শিল্প-অপরাধ তদন্তকারী ইউনিট চুরি হওয়া চারটি শিল্পকর্ম উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে।
ঘটনার পর জাদুঘরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে উৎসবের রাতে কীভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে চোরেরা এত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম নিয়ে পালাতে সক্ষম হলো, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







