ফিলিপাইনে টানা ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বৈরী আবহাওয়ায় দেশটির প্রায় ৫০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্যের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
ফিলিপাইনে শক্তিশালী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টির সঙ্গে লুইস ও মেমে (Maymay) নামের দুটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
দেশটির প্রধান দ্বীপ লুজন এবং ভিসায়াসের কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং বিভিন্ন সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।
দুর্যোগে নিহতদের বড় একটি অংশ ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলীয় পাহাড়ি শহর বাগুইওতে গত ৯ আগস্ট ভূমিধসে ঘরবাড়ি মাটিচাপা পড়ে অন্তত ১০ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে শিশুও ছিল। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে এবং ভূমিধসে আরও প্রাণহানি ঘটেছে।
বন্যা ও ভূমিধসের কারণে বহু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন প্রদেশে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ সরকারি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে।
স্থানীয় প্রশাসন, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও উদ্ধারকারী দলগুলো যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় কিছু অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছাতেও সমস্যা হচ্ছে।
টানা বৃষ্টিতে সোমবার রাজধানী ম্যানিলা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। যান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার রাজধানী অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি অফিসের কার্যক্রম স্থগিত এবং সব পর্যায়ের ক্লাস বাতিল করে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনলাইন কার্যক্রমে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে ফিলিপাইনের কৃষি, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট পর্যন্ত কৃষিখাতে ক্ষতির পরিমাণ ১ বিলিয়ন পেসোর বেশি ছাড়িয়েছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: এপি নিউজ
আরও পড়ুন:







