News Ticker
221.png

ফিলিপাইনে ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীর এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ২ শিক্ষার্থী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:০৯

শেয়ার

শেয়ার

ফিলিপাইনে ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীর এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ২ শিক্ষার্থী
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাম্বোয়াঙ্গা শহরের একটি স্কুলে শ্রেণিকক্ষে গুলি চালিয়ে এক সহপাঠীকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় হামলাকারীসহ মোট দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জাম্বোয়াঙ্গা শহরের Ateneo de Zamboanga University-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি হাইস্কুল ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মায়েল জলানি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করে। পরে সে একটি শ্রেণিকক্ষে গুলি চালায়।

প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী প্রথমে শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা এক শিক্ষককে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর সে অন্য একটি কক্ষে গিয়ে এক সহপাঠীকে গুলি করে। ওই শিক্ষার্থী, যিনি দশম শ্রেণিতে পড়তেন, নিহত হন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর হামলাকারী স্কুল ভবনের পঞ্চম তলায় উঠে আত্মহত্যা করে। ফলে এই ঘটনায় নিহত দুজনই শিক্ষার্থী—একজন হামলাকারী এবং অন্যজন তার সহপাঠী।

গুলির শব্দ ছড়িয়ে পড়ার পর স্কুল ক্যাম্পাস থেকে শত শত শিক্ষার্থীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব পর্যায়ের ক্লাস স্থগিত করেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলেও নিরাপত্তা বাহিনী ক্যাম্পাসে ব্যাপক তল্লাশি চালায়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাকারীর শরীরে একটি ক্যামেরা ছিল এবং হামলার কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার করা হয়ে থাকতে পারে। পুলিশের ধারণা, তদন্তে তার অনলাইন কার্যক্রম ও চ্যাট ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে। হামলার উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হামলাকারী কীভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করেছিল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে সেগুলো স্কুলে নিয়ে ঢুকতে পেরেছিল, তা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তার কাছে একটি পিস্তল ও একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

এপি জানিয়েছে, ব্যবহৃত একটি আগ্নেয়াস্ত্র হামলাকারীর বাবার সরকারি ইস্যু করা অস্ত্র ছিল। তার বাবা ফিলিপাইনের ব্যুরো অব কাস্টমস পুলিশের একজন কর্মকর্তা। অস্ত্রটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

ফিলিপাইনে দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী স্কুলে গুলির ঘটনা। এর আগে জুনে টাকলোবান শহরের একটি হাইস্কুলে দুই শিক্ষার্থী গুলি চালালে অন্তত তিনজন নিহত ও সাতজন আহত হন।

নতুন ঘটনায় দেশটিতে স্কুলের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার্থীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছানোর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer