ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায়। নতুন এক রয়টার্স/ইপসোস জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তাঁর বর্তমান প্রেসিডেন্ট মেয়াদের সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) শেষ হওয়া চার দিনের অনলাইন জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে আগস্টের শুরুতে একই ধরনের জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন হার ছিল ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানেই তাঁর জনপ্রিয়তায় আরও দুই শতাংশীয় পয়েন্ট পতন হয়েছে।
৩৩ শতাংশ অনুমোদন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বনিম্ন। এই হার তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের সর্বনিম্ন রেকর্ডের সঙ্গেও মিলে গেছে। দ্বিতীয় মেয়াদে এর আগে তাঁর অনুমোদন হার ৩৪ শতাংশের নিচে নামেনি।
ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তাঁর অনুমোদন হার ছিল ৪৭ শতাংশ। এরপর বিভিন্ন নীতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাবের পাশাপাশি অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়তে থাকায় সেই সমর্থন ধীরে ধীরে কমেছে।
রয়টার্স/ইপসোস জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। যুদ্ধটি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই নয়, রিপাবলিকানদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য।
জরিপে মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ মনে করেছেন, ইরানে সামরিক অভিযান নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মূল্যবান ছিল। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও যুদ্ধকে পুরোপুরি সমর্থন করছেন না অনেকে।
ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক তেলবাজার ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রল ও অন্যান্য জ্বালানির দামে। বাড়তি জ্বালানি ব্যয় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচেও চাপ তৈরি করছে বলে জরিপে উঠে এসেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব যদি আরও বাড়ে, তাহলে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
শুধু যুদ্ধ নয়, জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সাম্প্রতিক আরেকটি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-ফোকালডাটা জরিপে ৫৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার জানিয়েছেন, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করার পর থেকে তারা আর্থিকভাবে আগের চেয়ে খারাপ অবস্থায় আছেন।
বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয় এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
২০২৬ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তার আগে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তার এই পতন রিপাবলিকান পার্টির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ভোটারদের আস্থা বাড়ছে, যা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







