যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর তার মরদেহ গাড়ির যাত্রী আসনে বসিয়ে কয়েকটি অঙ্গরাজ্য পেরিয়ে প্রায় ৪০০ মাইল (৬৪৪ কিলোমিটার) গাড়ি চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত টেনেসির মেমফিস শহরে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনায় গাড়ি থামানোর পর পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম টাইরন ব্রাজিল (৫০)। নিহত তার স্ত্রী লানেসা ব্র্যাডফোর্ড (৫০)। পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি শুরু হয় লুইজিয়ানার ব্যাটন রুজ শহরের ইন্ডিপেনডেন্স কমিউনিটি পার্কে। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্কের একপর্যায়ে ব্রাজিল তার স্ত্রীকে গুলি করেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ হয়ে ব্র্যাডফোর্ড মারা যাওয়ার পর ব্রাজিল ঘটনাস্থলে পুলিশ বা জরুরি সেবায় খবর না দিয়ে তার মরদেহ গাড়ির সামনের যাত্রী আসনে বসান। এরপর গাড়ি নিয়ে লুইজিয়ানা থেকে উত্তর দিকে রওনা হন।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ওই যাত্রায় তিনি মিসিসিপি হয়ে টেনেসির মেমফিসে পৌঁছান। মোট দূরত্ব ছিল প্রায় ৪০০ মাইল। মেমফিস শহরে একটি ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনায় পুলিশ গাড়িটি থামালে পাশের আসনে ব্র্যাডফোর্ডের মরদেহ দেখতে পায়। তার শরীরে গুলির আঘাত ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
পুলিশের হাতে আটকের পর ব্রাজিলকে পলাতক আসামি হিসেবে হেফাজতে নেওয়া হয়। লুইজিয়ানায় ফেরত পাঠানোর (extradition) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সেখানে তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডার বা দ্বিতীয় মাত্রার হত্যার অভিযোগ আনার কথা রয়েছে।
নিহত ব্র্যাডফোর্ড ব্যাটন রুজের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাজ করতেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তার দীর্ঘদিনের বন্ধু শেলিকা ডেকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দাম্পত্য সম্পর্কে বেশ কিছুদিন ধরেই সমস্যা চলছিল এবং ব্র্যাডফোর্ড স্বামীকে ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।
ডেকার জানিয়েছেন, ব্র্যাডফোর্ড এ জন্য টাকা জমিয়েছিলেন এবং শহরের বাইরে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল অনেকটা নীরবে চলে যাওয়ার।
বন্ধুর দাবি, এর আগে ব্রাজিল স্ত্রীকে এবং কখনো কখনো নিজেকেও হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক কয়েক মাসে তার আচরণ আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছিল বলেও ডেকার জানিয়েছেন। তবে ব্র্যাডফোর্ডের পরিচিতজনদের কাছে তার এমন হুমকি বাস্তবে হত্যাকাণ্ডে রূপ নেবে—এটি ছিল অকল্পনীয়।
ব্র্যাডফোর্ড কয়েক দিন কর্মস্থলে না যাওয়ায় তার সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে তার নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশকে জানানো হয় এবং একটি welfare check পরিচালনা করা হয়। তদন্ত এগোতে থাকতেই তার মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসে।
এদিকে মেমফিসে পুলিশের ট্রাফিক স্টপের ঘটনাই তদন্তকারীদের কাছে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে দাঁড়ায়। গাড়ির ভেতর মরদেহ পাওয়ার পর ব্রাজিলকে আটক করা হয় এবং তাকে লুইজিয়ানার মামলায় বিচারের মুখোমুখি করার প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনায় হত্যার সঠিক কারণ, গুলি চালানোর আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কী ঘটেছিল এবং হত্যার পর কেন অভিযুক্ত ব্যক্তি মরদেহ নিয়ে এত দূর গাড়ি চালিয়েছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরও পড়ুন:







