News Ticker
221.png

গাজায় বসবাসের অযোগ্য তাঁবুতে ৮ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৩৬

শেয়ার

শেয়ার

গাজায় বসবাসের অযোগ্য তাঁবুতে ৮ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকাটিতে বাস্তুচ্যুত ২১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির মধ্যে ৮ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী তাঁবুতে দিন কাটাচ্ছেন। জরুরি ভিত্তিতে এসব তাঁবু প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, মোট বাস্তুচ্যুত পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৯ হাজার ৩৯৩টি। এসব পরিবারের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ২৭ হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন, আর প্রায় ১১ লাখ ২২ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার বাস্তুচ্যুত পরিবার, অর্থাৎ ৮ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ, এমন তাঁবুতে বসবাস করছেন যেগুলো মানব বসবাসের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। এসব তাঁবু দ্রুত প্রতিস্থাপন না করা হলে বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, অস্থায়ী আবাসন, কারাভান, আবহাওয়া-সহনশীল তাঁবু এবং অন্যান্য আশ্রয়সামগ্রী দ্রুত গাজায় প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে।

জরাজীর্ণ তাঁবুতে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে ৫ লাখেরও বেশি শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। পর্যাপ্ত উষ্ণতা ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে এসব শিশু বিভিন্ন রোগ ও মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে বলে বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে।

এছাড়া তাঁবুগুলোতে বসবাসরত মানুষের মধ্যে প্রায় ৪৬ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি, ২৩ হাজার বিধবা, ৫৯ হাজার এতিম এবং ১৫ হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের জন্য নিরাপদ ও স্থায়ী আশ্রয়ের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গাজার বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য শুধু তাঁবুর সংকটই নয়, খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও স্যানিটেশন নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ ও দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও মৌলিক জীবনযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের জুনের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় প্রায় ৫ হাজার পরিবার খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছিল এবং আরও প্রায় ৫২ হাজার পরিবার অতিরিক্ত ভিড়ের আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছিল। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষের জরুরি আশ্রয়সামগ্রী—যেমন প্লাস্টিক শিট, কাঠের পাত ও দড়ি—প্রয়োজন।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস শীত মৌসুম সামনে রেখে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। জরাজীর্ণ তাঁবুগুলো ঠান্ডা, বৃষ্টি ও প্রবল বাতাস থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে না পারায় আগামী মাসগুলোতে বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

সংস্থাটি ধ্বংসস্তূপ অপসারণ, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা পুনর্গঠনের কাজ দ্রুত শুরু করারও আহ্বান জানিয়েছে।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর প্রতি জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়সংকট মোকাবিলায় তহবিল ও সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে নারী-প্রধান পরিবার, গর্ভবতী নারী, স্তন্যদানকারী মা, শিশু ও বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, গাজায় কারাভান, নির্মাণসামগ্রী, তাঁবু ও অন্যান্য জরুরি আশ্রয় উপকরণ প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা না গেলে বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে।

গাজায় ৮ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষের বসবাসের অনুপযোগী তাঁবুতে আটকে থাকার তথ্য উপত্যকার চলমান মানবিক সংকটের গভীরতা তুলে ধরছে। নিরাপদ আবাসন, খাদ্য, পানি ও চিকিৎসার অভাবে লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দীর্ঘমেয়াদি আশ্রয়, জরুরি ত্রাণ এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ChannelNRB Footer