News Ticker
221.png

কোটি টাকার আশায় কিশোরের অণ্ডকোষ ‘ছিনতাই’

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৪০

শেয়ার

শেয়ার

কোটি টাকার আশায় কিশোরের অণ্ডকোষ ‘ছিনতাই’
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভয়াবহ গুজবের জেরে ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালে ১৭ বছরের এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তরা বিশ্বাস করেছিল—একজন কিশোরের অণ্ডকোষ বিক্রি করে কোটি রুপি আয় করা সম্ভব। সেই মিথ্যা ধারণা থেকেই কিশোরটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় এবং তার অণ্ডকোষ সরিয়ে নেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ঘটনাটির পেছনে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও বা ‘রিল’-এর প্রভাব ছিল বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। ওই ভিডিওতে মানব অণ্ডকোষের মূল্য কোটি রুপি হতে পারে—এমন বিভ্রান্তিকর দাবি করা হয়েছিল।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ভোপালের ২০ বছর বয়সী এক বিবিএ শিক্ষার্থী নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে কয়েকজন কিশোরকে ওই মিথ্যা ধারণায় বিশ্বাস করান। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ।

তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা মনে করেছিল ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরের অণ্ডকোষ বিক্রি করলে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ রুপি পাওয়া যাবে। এই অর্থের লোভেই তারা কিশোরটিকে টার্গেট করে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত কিশোরটি কলম ও চাবির রিং বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। তাকে ১০০ রুপি দেওয়ার কথা বলে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ভোপালের গিন্নৌরি ও কিলোল পার্ক হয়ে তাকে ছোট তালাবের কাছে ধোবিঘাট এলাকার একটি নির্জন স্থানে নেওয়া হয় বলে তদন্তে জানা গেছে। সেখানে তার ওপর হামলা চালানো হয়।

পুলিশের অভিযোগ, কিশোরটিকে ছুরি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার আঘাত করা হয়। পরে তার মৃত্যু হলে অভিযুক্তরা কথিত পরিকল্পনা অনুযায়ী মৃতদেহ থেকে অণ্ডকোষ সরিয়ে নেয়।

হত্যার পর অভিযুক্তরা বুঝতে পারে, তাদের কাছে কথিত অঙ্গটি থাকলেও সেটি কেনার কোনো ব্যক্তি নেই। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা সম্ভাব্য ক্রেতার সন্ধান করতে থাকে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো ক্রেতা পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ যে কোটি টাকার আশায় ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল, সেটির কোনো বাস্তব ভিত্তিই ছিল না।

মানব অণ্ডকোষের নির্দিষ্ট কোটি টাকার বাজারমূল্য রয়েছে—এমন দাবি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তিহীন। অনলাইনে বহু বছর ধরে পুরুষের অণ্ডকোষের দাম হাজার হাজার ডলার থেকে শুরু করে কোটি টাকা পর্যন্ত হওয়ার নানা গুজব ছড়িয়েছে। ফ্যাক্ট-চেক সংস্থাগুলো এসব দাবিকে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

বিশেষজ্ঞ তথ্য অনুযায়ী, মানুষের অঙ্গ বেচাকেনা অধিকাংশ দেশেই বেআইনি। অণ্ডকোষ বিক্রি করে বিপুল অর্থ পাওয়ার ভাইরাল দাবিগুলোরও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন তথ্য ও ‘রিল’-নির্ভর গুজব কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তার একটি মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করেছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তকারীরা ওই ভিডিও বা রিলের উৎস এবং অভিযুক্তদের মধ্যে কীভাবে তথ্যটি ছড়িয়েছিল, সেটিও খতিয়ে দেখছেন।

একটি ভিত্তিহীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাবিকে সত্য ধরে নিয়ে মাত্র ১৭ বছরের এক কিশোরকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। যে অঙ্গ বিক্রি করে কোটি টাকা পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল অভিযুক্তরা, শেষ পর্যন্ত তার কোনো ক্রেতাই পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চাঞ্চল্যকর তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস করা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ChannelNRB Footer