বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া সম্প্রচারমাধ্যম ইএসপিএনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ক্রীড়া সম্প্রচার জগতের অন্যতম পথিকৃৎ বিল রাসমুসেন মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজ বাড়িতে ৯৩ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। ইএসপিএনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পারকিনসন রোগের প্রভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।
বিল রাসমুসেন এমন একটি ক্রীড়া টেলিভিশন নেটওয়ার্কের ধারণা দিয়েছিলেন, যেখানে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা শুধু খেলাধুলা সম্প্রচার করা হবে। ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে এমন ধারণা ছিল অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। কিন্তু ছেলে স্কট রাসমুসেনের সঙ্গে তার সেই পরিকল্পনাই পরবর্তীতে ইএসপিএনের জন্ম দেয় এবং বিশ্বজুড়ে ক্রীড়া সম্প্রচারের ধরন বদলে দেয়।
১৯৭৮ সালে রাসমুসেন ও তার ছেলে স্কট একটি ক্রীড়াভিত্তিক টেলিভিশন নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা করেন। শুরুতে তাদের লক্ষ্য ছিল কানেকটিকাটের স্থানীয় খেলাধুলা টেলিভিশনে সম্প্রচার করা। পরে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে সেই পরিকল্পনা জাতীয় পর্যায়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
রাসমুসেনের নেতৃত্বে উদ্যোগটি দ্রুত এগিয়ে যায়। ১৯৭৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ইএসপিএনের সম্প্রচার শুরু হয়। প্রথম দিনের অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল SportsCenter। মাত্র কয়েক বছর আগেও ২৪ ঘণ্টার ক্রীড়া চ্যানেলের ধারণা নিয়ে সংশয় থাকলেও ইএসপিএন দ্রুত মার্কিন ক্রীড়া সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়।
ইএসপিএনের প্রতিষ্ঠা টেলিভিশনে খেলাধুলা দেখার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনে। এর আগে ক্রীড়া সম্প্রচার সাধারণত নির্দিষ্ট ম্যাচ বা অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ইএসপিএন সার্বক্ষণিক ক্রীড়া সংবাদ, সরাসরি ম্যাচ, বিশ্লেষণ ও নানা ধরনের স্পোর্টস প্রোগ্রামিংকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসে।
পরবর্তীতে ইএসপিএন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ক্রীড়া সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। রাসমুসেনের প্রাথমিক ধারণা ও উদ্যোক্তা মানসিকতাকে এই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইএসপিএনের ধারণার অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা হলেও রাসমুসেন দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটির সক্রিয় নেতৃত্বে ছিলেন না। ১৯৮০ সালে তিনি ইএসপিএন থেকে সরে দাঁড়ান। এরপরও ক্রীড়া সম্প্রচার ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতেন।
ইএসপিএনের সঙ্গে তার সম্পর্ক পরবর্তী সময়ে আবারও ঘনিষ্ঠ হয়। নেটওয়ার্কটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে সম্মান জানানো হয়। ক্রীড়া সম্প্রচার জগতে তার অবদানকে ইএসপিএনের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
রাসমুসেন ২০১৪ সালে পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হন এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন। রোগটির বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতেও তিনি কাজ করেন। দীর্ঘদিন অসুস্থতার পর ফ্লোরিডার নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।
রাসমুসেনের মৃত্যুতে ইএসপিএনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। ইএসপিএন চেয়ারম্যান জিমি পিটারো তাকে একজন দূরদর্শী ও উদ্ভাবক হিসেবে স্মরণ করেছেন। তার মতে, ক্রীড়াকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন নেটওয়ার্ক তৈরির ধারণা এবং সেটি বাস্তবায়নের জন্য রাসমুসেনের কঠোর পরিশ্রম ইএসপিএনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।
৯৩ বছর বয়সে বিল রাসমুসেনের মৃত্যুতে ক্রীড়া সম্প্রচার জগতের এক অগ্রদূতের জীবনাবসান হলো। তার হাত ধরে শুরু হওয়া ইএসপিএন আজ বিশ্ব ক্রীড়া গণমাধ্যমের অন্যতম বড় নাম—যার পেছনে রয়েছে রাসমুসেনের কয়েক দশক আগের সেই সাহসী ও ব্যতিক্রমী ধারণা।
সূত্র:এপি নিউজ
আরও পড়ুন:







