News Ticker
221.png

রাশিয়ার মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠল ইউক্রেন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২০

আপডেট: ২০ আগস্ট, ২০২৬ ২০:১৮

শেয়ার

শেয়ার

রাশিয়ার মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠল ইউক্রেন
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোররাত থেকে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া রাতভর কয়েক ডজন ক্রুজ, ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ১৬৮টি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালায়। ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী বিপুলসংখ্যক ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার দাবি করলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

হামলার সময় কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বেশ কয়েকটি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আবাসিক ভবনের পাশাপাশি একটি স্কুল, শিশুদের চিকিৎসাকেন্দ্র এবং অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি রেডক্রসের গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

কিয়েভের সোলোমিয়ানস্কি এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের ওপরের কয়েকটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে পড়ার খবর পাওয়া যায়। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেন।

রুশ হামলার সতর্কতা জারি হওয়ার পর কিয়েভের বাসিন্দাদের অনেকে ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশন ও অন্যান্য নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। হামলার সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হামলার ব্যাপকতা এতটাই ছিল যে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে একসঙ্গে বহু ধরনের লক্ষ্য মোকাবিলা করতে হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত মার্কিন নির্মিত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার পর মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

জেলেনস্কি আরও বলেছেন, রাশিয়ার এ ধরনের হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের মিত্রদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, হামলায় ইউক্রেনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে। মস্কোর দাবি অনুযায়ী, কিয়েভ ও আশপাশে ড্রোনের যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী স্থাপনা, সামরিক গুদাম ও লজিস্টিক অবকাঠামো ছিল হামলার লক্ষ্য।

তবে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় আবাসিক ভবন ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ঘটেছে।

রাশিয়ার ব্যাপক হামলার মধ্যেই ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের আকাশপথের লড়াই আরও তীব্র হয়েছে।

সর্বশেষ হামলাকে ইউক্রেনের রাজধানীর ওপর সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় রুশ বিমান হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer