৩৪ বছর ধরে নিখোঁজ থাকা দুই বেলজিয়ান পর্বতারোহীর মরদেহের সন্ধান মিলেছে সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালায়। দীর্ঘ সময় বরফের নিচে চাপা থাকার পর হিমবাহ গলে যাওয়ায় তাদের মরদেহ প্রকাশ্যে আসে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহ দুটি ১৯৯২ সালে নিখোঁজ হওয়া ওই দুই পর্বতারোহীর।
সুইজারল্যান্ডের ভালাইস ক্যান্টন পুলিশ বুধবার (১৯ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই দক্ষিণ সুইজারল্যান্ডে ইতালি সীমান্তের কাছে ট্রিফট হিমবাহে এক পথচারী দুটি মরদেহ দেখতে পান। পরে উদ্ধার করে মরদেহ দুটি সিওনের ভালাইস হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
সেখানে ডিএনএ পরীক্ষা ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের নমুনার সঙ্গে তুলনা করে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ১৯৯২ সালে নিখোঁজ হওয়ার সময় দুই বেলজিয়ান পর্বতারোহীর বয়স ছিল যথাক্রমে ৩৯ ও ৪১ বছর।
দুই পর্বতারোহী ১৯৯২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ওয়েইসমিস হাট থেকে আলমাগেলার হাটের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। তাদের পরিকল্পিত পথ ছিল ৪ হাজার ১৭ মিটার উঁচু ওয়েইসমিস পর্বতের চূড়া অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছানো।
তবে অভিযানের সময় ওই এলাকায় ভয়াবহ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়। প্রবল তুষারপাত ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে তারা আর গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েক দফা অনুসন্ধান চালানো হলেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। শুধু একটি পর্বতারোহণের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছিল।
নিখোঁজ হওয়ার পর তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই পর্বতারোহীর মরদেহ হিমবাহের বরফের নিচে চাপা পড়ে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে হিমবাহের বরফ দ্রুত গলতে থাকায় মরদেহ দুটি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
ভালাইস পুলিশ জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে ১৯২৫ সাল থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকা ও নদীতে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাগুলোর অনেকগুলোরই দীর্ঘদিন কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আল্পসের হিমবাহগুলো দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। এর ফলে বহু বছর বা কয়েক দশক আগে বরফের নিচে চাপা পড়ে যাওয়া পর্বতারোহীদের মরদেহ ও দেহাবশেষ এখন একে একে বেরিয়ে আসছে।
গত বছরও ভালাইসের ওবার গাবেলহর্ন পর্বতের একটি হিমবাহ থেকে ১৯৯৪ সালে নিখোঁজ হওয়া এক সুইস পর্বতারোহীর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছিল।
৩৪ বছর পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুই পর্বতারোহীর পরিবার দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান পেল। এত বছর ধরে তাদের নিখোঁজ হিসেবেই বিবেচনা করা হলেও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় এখন তাদের মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়েছে।
এই ঘটনা শুধু দীর্ঘদিনের একটি নিখোঁজ রহস্যের সমাধানই নয়, একই সঙ্গে আল্পস অঞ্চলের দ্রুত গলতে থাকা হিমবাহের আরেকটি দৃশ্যমান প্রমাণ হিসেবেও সামনে এসেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আরও পড়ুন:







