নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সোকোটো রাজ্যে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বড় একটি অংশ শিশু বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) স্থানীয় সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোকোটো রাজ্যের গোরাউ এলাকার কাছে গোরোনিও স্থানীয় সরকার অঞ্চলের একটি নদীতে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাটিতে ৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে। অন্য একটি প্রতিবেদনে যাত্রীর সংখ্যা ৮০-এর বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নৌকাটিতে ধানখেতের মালিক ও শ্রমিকরা ছিলেন। তারা নদীপথে কৃষিজমিতে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। স্থানীয় সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে প্রায় ৪০ জনই ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারী দল নদীতে তল্লাশি শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ৪৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে উদ্ধার অভিযান চলার সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী ৫৩ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত মৃত্যুসংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন।
রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর অন্তত ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্য ও নিখোঁজদের সংখ্যা যাচাই করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। স্থানীয় একটি মসজিদের সামনে নিহতদের মরদেহ কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় রাখা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে নৌকাটিতে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিষয়টি দুর্ঘটনার অন্যতম সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। নাইজেরিয়ার নদীপথে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নৌযানের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে প্রয়োগ না করার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বর্ষাকালে নদীর পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ে।
নাইজেরিয়ায় নৌদুর্ঘটনা নতুন নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও দেশটির ইয়োবে রাজ্যে একটি নৌদুর্ঘটনায় ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
সোকোটোর সর্বশেষ এই দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







