News Ticker
221.png

কেমব্রিজ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগের পর বরখাস্ত গবেষক 

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৫০

শেয়ার

শেয়ার

কেমব্রিজ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগের পর বরখাস্ত গবেষক 
ছবি: সংগৃহীত

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত অধ্যাপক জেসন আরডের বিরুদ্ধে প্লেজিয়ারিজম বা গবেষণায় অন্যের কাজ নকল করার অভিযোগ তোলা মার্কিন গবেষক নাথান কোফনাসকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক শৃঙ্খলাজনিত তদন্ত শুরু হয়েছে।

ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন ও নৈতিক বিজ্ঞান বিভাগের পোস্টডক্টরাল গবেষক কোফনাস সম্প্রতি কেমব্রিজের অধ্যাপক জেসন আরডের একাডেমিক কাজ নিয়ে প্রকাশ্যে প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ তোলেন। তার অভিযোগ ঘিরে আরডের একাডেমিক যোগ্যতা ও ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।

কোফনাস তার ব্লগে আরডের পিএইচডি থিসিসের বিভিন্ন অংশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি ছিল, থিসিসের কিছু অংশ অন্য গবেষকের কাজের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে মিলে যায়। এ নিয়ে প্রকাশিত অভিযোগের পর আরডের একাডেমিক রেকর্ড এবং তার ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন দাবিও গণমাধ্যমের নজরে আসে।

আরডে প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তবে তিনি তার গবেষণাকাজে কিছু ভুল থাকার কথা স্বীকার করেন। বিতর্ক তীব্র হওয়ার পর ৫ আগস্ট তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ও তার নিয়োগ ও একাডেমিক যোগ্যতা নিয়ে তদন্তের ঘোষণা দেয়।

অধ্যাপক আরডে পদত্যাগের কয়েক দিন পর, ১৪ আগস্ট দক্ষিণ লন্ডনের নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। তার বয়স হয়েছিল ৪১ বছর। ব্রিটিশ পুলিশ জানিয়েছে, তার মৃত্যু অপ্রত্যাশিত হলেও সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। তার মৃত্যুর পর ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাজ্যে ব্যাপক আলোচনা ও শোকের সৃষ্টি হয়।

আরডের মৃত্যুর পর কোফনাসের প্রকাশ্য বক্তব্য নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক শৃঙ্খলাজনিত তদন্ত শুরু করে এবং তদন্ত চলাকালে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, এটি একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

কোফনাস নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানান। তিনি দাবি করেন, তাকে ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তিনি আশঙ্কা করছেন যে শেষ পর্যন্ত স্থায়ীভাবেও চাকরি হারাতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এখনো এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।

ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তারা একাডেমিক স্বাধীনতা ও মুক্ত বিতর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তবে এই স্বাধীনতা সীমাহীন নয়; অন্য মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রয়োজন হলে এর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে।

জেসন আরডে ২০২৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে পরিচিতি পান। সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে তার উত্থান ছিল আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত। কিন্তু তার একাডেমিক রেকর্ড নিয়ে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।

আরডে অভিযোগগুলো অস্বীকার করলেও তীব্র গণমাধ্যমের চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর পর পরিবার ও সমর্থকেরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের জনসম্মুখের চাপ, অপমান ও হয়রানি তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। অন্যদিকে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, আরডের নিয়োগ ও একাডেমিক রেকর্ড নিয়ে তাদের তদন্ত চলছিল এবং তার মৃত্যুর পর পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে সেই তদন্তের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

নাথান কোফনাসের সাময়িক বরখাস্তের মধ্য দিয়ে ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে একাডেমিক গবেষণায় প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ কীভাবে যাচাই করা হবে—সে প্রশ্ন সামনে এসেছে। অন্যদিকে অভিযোগ প্রকাশের ধরন, একাডেমিক স্বাধীনতার সীমা এবং কোনো ব্যক্তিকে জনসমক্ষে অভিযুক্ত করার ক্ষেত্রে গবেষক ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer