ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪০ জনেরও বেশি। বৃহস্পতিবার রাতভর চালানো এ হামলাকে যুদ্ধের অন্যতম বড় ও ভয়াবহ হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ক্রুজ, ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ১৬৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। দেশটির বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বিপুলসংখ্যক ড্রোন ও বেশিরভাগ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
হামলায় কিয়েভের সোলোমিয়ানস্কি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে একটি নয়তলা আবাসিক ভবনের ওপরের অংশ ধসে পড়ে এবং অন্তত আটজন নিহত হন। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ৩০টি আবাসিক ভবন, একটি স্কুল, একটি শিশু হাসপাতাল ও একটি কিন্ডারগার্টেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাদ্যগুদাম ও রেড ক্রসের অবকাঠামোও হামলার শিকার হয়েছে।
হামলার পর কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো শোক দিবস ঘোষণা করেছেন। ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা।
জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনের মিত্রদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র না পাওয়ার কারণে বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। বিশেষ করে রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি আরও সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, হামলায় সামরিক স্থাপনা, ড্রোন উৎপাদনকেন্দ্র, সামরিক ডিপো ও লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় বেসামরিক স্থাপনাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে হামলার সময় ইউক্রেনের ড্রোন প্রতিবেশী রোমানিয়া ও মলদোভায় গিয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের এই হামলা সংঘাতের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। কূটনৈতিকভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ চললেও মাঠপর্যায়ে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







