News Ticker
221.png

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘চূড়ান্ত বিধ্বংসী’ জবাবের হুমকি ইরানের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:০১

শেয়ার

শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘চূড়ান্ত বিধ্বংসী’ জবাবের হুমকি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকির মধ্যে পাল্টা ‘বিধ্বংসী’ জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো হুমকি বা আগ্রাসী পদক্ষেপ নিলে তার জবাব সামরিকভাবে দেওয়া হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ইরানের অর্থনীতির ওপর সর্বোচ্চ চাপ তৈরি করে দেশটির নেতৃত্বকে নীতিগত পরিবর্তনে বাধ্য করা। একই সঙ্গে ইরানকে সহায়তা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি জানান, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হুমকি দিলে তেহরানের প্রতিক্রিয়া হবে ‘বিধ্বংসী’। তিনি ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া যে সামরিক সক্ষমতার বিস্তৃত পরিসরজুড়ে হতে পারে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছেন। তার ভাষ্য, ওয়াশিংটনের পদক্ষেপ মূলত ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ। তেহরান এই চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান চলমান সংঘাতের অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ এবং ইরানের পাল্টা হুমকির কারণে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও তীব্র হলে আন্তর্জাতিক তেলবাজার, নৌ-বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হলেও অগ্রগতি থমকে আছে। গত ১৭ আগস্ট রয়টার্স জানিয়েছিল, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরান আরও আক্রমণাত্মক সামরিক অবস্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে অনাগ্রহ দেখিয়েছে।

ফলে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা, সামরিক হুমকি এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে এখন মূল উদ্বেগ—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান শেষ পর্যন্ত আবার সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নেয় কি না।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer