ইয়েমেন ও সোমালিয়ার উপকূলের কাছে পৃথক দুটি ঘটনায় জলদস্যুদের কবলে পড়েছে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ। এসব জাহাজে মোট ২২ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুই জাহাজে থাকা সব ভারতীয় নাবিকই নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাগুলো আলাদা সময়ে ও আলাদা এলাকায় ঘটেছে। প্রথম জাহাজটি সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলের কাছে এবং দ্বিতীয়টি ইয়েমেনের কাছে এডেন উপসাগরে জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে যায়।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ আগস্ট সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলের কাছে। ক্যামেরুনের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি লুতুফ (M/V LUTUF) জলদস্যুদের হাতে ছিনতাই হয়।
জাহাজটিতে মোট ১০ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৬ জন ভারতীয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সশস্ত্র ব্যক্তিরা জাহাজটিতে উঠে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং পরে জাহাজটিকে সোমালিয়ার নুগাল উপকূলের দিকে নিয়ে যায়।
জাহাজটিতে তুরস্কের সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত অস্ত্র থাকার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে জাহাজের কার্গো ও বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ২০ আগস্ট। ইয়েমেনের উপকূলের কাছে এডেন উপসাগরে এমটি সিবু ১ (MT Sibu 1) নামের একটি তেলজাত পণ্যবাহী ট্যাংকার জলদস্যুদের কবলে পড়ে।
এটি ইরিত্রিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ। জাহাজটিতে মোট ২০ জন ক্রু ছিলেন, যার মধ্যে ১৬ জনই ভারতীয় নাগরিক। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানিয়েছে, ছয়জন সশস্ত্র ব্যক্তি জাহাজটিতে উঠে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং পরে জাহাজটিকে সোমালিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
ঘটনার পর ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুটি জাহাজে থাকা সব ২২ জন ভারতীয় নাবিক নিরাপদ। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাও দুটি জাহাজ ছিনতাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জাহাজ দুটি বিদেশি পতাকাবাহী হওয়ায় ঘটনাগুলোকে ভারতীয় জাহাজ ছিনতাই হিসেবে নয়, বরং ভারতীয় নাগরিকদের বহনকারী বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ছিনতাই হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
ইয়েমেন, এডেন উপসাগর ও সোমালিয়ার আশপাশের সমুদ্রপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধ ও আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়েছে। নতুন করে দুটি জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনায় ওই অঞ্চলে জলদস্যুতার ঝুঁকি নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে ভারতীয় নাবিকদের উপস্থিতি এই ঘটনাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় সামুদ্রিক জনশক্তির উৎস হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় নাবিক কাজ করেন। ফলে সংঘাতপ্রবণ ও জলদস্যুপ্রবণ সমুদ্রপথে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মিত উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
দুটি জাহাজের অবস্থান, নাবিকদের নিরাপত্তা এবং তাদের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—২২ ভারতীয় নাবিক নিরাপদে রয়েছেন। তবে জাহাজ দুটির নিয়ন্ত্রণ ও পরবর্তী গতিপথ নিয়ে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
আরও পড়ুন:







