বিশ্বের প্রবীণতম জীবিত ব্যক্তি এথেল ক্যাথেরহ্যাম ১১৭ বছরে পা দিয়েছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) যুক্তরাজ্যের সারেতে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বিশেষ আয়োজনে জন্মদিন উদযাপন করছেন তিনি। Guinness World Records-এর স্বীকৃতি অনুযায়ী, ১১৭ বছর বয়সে পৌঁছানো তিনিই প্রথম ব্রিটিশ ব্যক্তি।
১৯০৯ সালের ২১ আগস্ট যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পশায়ারে জন্মগ্রহণ করেন এথেল ক্যাথেরহ্যাম। তাঁর জন্মের সময় ব্রিটেনের সিংহাসনে ছিলেন রাজা এডওয়ার্ড সপ্তম। অর্থাৎ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি ব্রিটেন ও বিশ্বের নানা ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে আছেন।
২০২৫ সালে ব্রাজিলের সন্ন্যাসিনী ইনাহ কানাবারো লুকাস ১১৬ বছর বয়সে মারা যাওয়ার পর এথেল ক্যাথেরহ্যাম বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পান। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত নারী হিসেবেও Guinness World Records-এর স্বীকৃতি পেয়েছেন।
Guinness-এর তথ্য অনুযায়ী, ক্যাথেরহ্যাম বর্তমানে যাচাই করা বয়সের ভিত্তিতে ইতিহাসের ১৩তম প্রবীণতম ব্যক্তি। তিনি ১৯১০ সালের আগে জন্ম নেওয়া জীবিত শেষ ব্যক্তি হিসেবেও উল্লেখযোগ্য।
এথেল ক্যাথেরহ্যামের জীবনকাল ২০ শতক ও ২১ শতকের গুরুত্বপূর্ণ বহু ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তিনি দুই বিশ্বযুদ্ধ দেখেছেন এবং ২০২০ সালে ১১০ বছর বয়সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েও সুস্থ হয়ে ওঠেন।
জীবনের কর্মজীবনে তিনি শিশুদের দেখাশোনার কাজ করেছেন এবং পরে একটি নার্সারি পরিচালনা করেন। তাঁর স্বামী নরম্যান ক্যাথেরহ্যাম ১৯৭৬ সালে মারা যান। তাঁদের দুই কন্যাও তাঁর আগে মারা গেছেন। বর্তমানে তাঁর তিন নাতি-নাতনি এবং পাঁচ প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী রয়েছে।
রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ ছিল গত বছরের বিশেষ মুহূর্ত
১১৭তম জন্মদিনের আগের বছরটিকে ক্যাথেরহ্যাম নিজের ভাষায় ‘অনেক প্রথম’-এর বছর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তাঁর হাত ধরে থাকা।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রাজা চার্লস তাঁকে দেখতে সারেতে তাঁর কেয়ার হোমে যান। সাক্ষাতের সময় ক্যাথেরহ্যাম রাজাকে তাঁর যৌবনের সময়ের কথা মনে করিয়ে দেন। ১৯৬৯ সালে চার্লস প্রিন্স অব ওয়েলস হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার সময়কার স্মৃতিও তিনি তাঁর সঙ্গে ভাগ করে নেন।
১১৭ বছর বয়সেও নতুন অভিজ্ঞতা থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি ক্যাথেরহ্যাম। গত এক বছরে তাঁর উল্লেখযোগ্য নতুন অভিজ্ঞতার মধ্যে ছিল একটি লামাকে আদর করা। জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তাঁর দিনটি সুন্দরভাবেই উদযাপিত হয়েছে এবং আগামী বছর কী নিয়ে আসে, তা দেখার জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন।
বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের সারেতে একটি কেয়ার হোমে বসবাস করছেন। এবারের জন্মদিনের আয়োজনটি পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে ব্যক্তিগতভাবেই পালন করা হচ্ছে।
দীর্ঘায়ুর রহস্য সম্পর্কে ক্যাথেরহ্যাম অতীতে জানিয়েছেন, তিনি অন্যের সঙ্গে তর্কে না জড়িয়ে শান্ত থাকার চেষ্টা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি অন্যের কথা শোনেন এবং নিজের মতো করে জীবনযাপন করেন।
তবে তাঁর দীর্ঘায়ুকে কোনো একটি নির্দিষ্ট অভ্যাস বা খাদ্যাভ্যাসের ফল হিসেবে নিশ্চিতভাবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘায়ুর পেছনে জেনেটিক বৈশিষ্ট্য, জীবনযাপন, পরিবেশ ও অন্যান্য নানা বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমান বিশ্বের প্রবীণতম জীবিত ব্যক্তি এথেল ক্যাথেরহ্যাম হলেও ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বয়সে পৌঁছানো যাচাই করা ব্যক্তি হলেন ফ্রান্সের জ্যাঁ কালমাঁ। তিনি ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচেছিলেন।
এথেল ক্যাথেরহ্যামের ১১৭তম জন্মদিন তাই শুধু ব্যক্তিগত একটি মাইলফলক নয়; এটি যুক্তরাজ্যের দীর্ঘায়ুর ইতিহাসেও একটি নতুন রেকর্ড। Guinness World Records-এর ভাষায়, ১১৭ বছরে পৌঁছে তিনি ব্রিটিশ দীর্ঘায়ুর রেকর্ডকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি
আরও পড়ুন:







