সুইডেনের একটি স্কুলে তলোয়ার নিয়ে ভয়াবহ হামলায় ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর ফাগেরস্তার Brinell School-এ এ হামলা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ তলোয়ার নিয়ে স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ তাকে গুলি করে আটক করে। হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে হামলাকারী একাই কাজ করেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
হামলার সময় স্কুলে কয়েকশ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে হামলাকারী স্কুলের ভেতরে ঢুকে তলোয়ার দিয়ে কয়েকজনকে আক্রমণ করে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীকে গুলি করে আটক করে। প্রাথমিকভাবে তাকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়েছিল বলে কিছু প্রতিবেদনে বলা হলেও পরে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, গ্রেপ্তারের সময় তার শরীরে গুলির আঘাত লাগেনি।
হামলার পর স্কুল ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কয়েকটি কাছাকাছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও সতর্কতামূলকভাবে লকডাউন করা হয়েছিল।
সুইডিশ পুলিশ শনিবার নিহত ব্যক্তির পরিচয় ও বয়স প্রকাশ করে জানায়, তিনি ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্রী। হামলায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে দুই কিশোরের অবস্থা গুরুতর বলে পুলিশ জানিয়েছে। আরেক আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নেওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
হামলার পর স্কুলের বাইরে নিহত ছাত্রীর স্মরণে ফুল ও মোমবাতি রেখে শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার সেখানে শোকাহত মানুষজন জড়ো হন।
পুলিশ ১৮ বছর বয়সী সন্দেহভাজনকে আটক করেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তদন্ত চলছে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল এবং সন্দেহভাজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হামলাকারী একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে তার হামলার উদ্দেশ্য বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করা হয়েছিল কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
হামলার পেছনে কোনো অনলাইন গোষ্ঠী বা সহিংসতামূলক কনটেন্টের প্রভাব ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করছে সুইডিশ পুলিশ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা একটি TikTok অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সন্দেহভাজনের সম্ভাব্য যোগাযোগ খতিয়ে দেখছেন। ওই অ্যাকাউন্টে হামলার আগে তলোয়ারের ছবি এবং অতীতের সহিংস হামলা নিয়ে বিভিন্ন কনটেন্ট ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তবে এসব অনলাইন কার্যক্রমের সঙ্গে হামলার সরাসরি সম্পর্ক এখনো প্রমাণিত হয়নি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর সুইডেনের স্কুলগুলো নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য খুলতে শুরু করেছে। Brinell School-এও নতুন শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
হামলার পর স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ স্কুল ভবনের জানালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে দেখেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুইডেনে স্কুলকেন্দ্রিক সহিংসতার কয়েকটি ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওরেব্রোতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্দুক হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছিলেন, যা সুইডেনের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী স্কুল হামলাগুলোর একটি।
এর আগে ২০১৫ সালে ট্রোলহাটানে তলোয়ার নিয়ে এক ব্যক্তি স্কুলে হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যা করেছিলেন। ফলে ফাগেরস্তার সাম্প্রতিক ঘটনাটি দেশটির স্কুল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
তদন্তকারীদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—১৮ বছর বয়সী ওই তরুণ কেন স্কুলে তলোয়ার নিয়ে হামলা চালালেন।
পুলিশ হামলাকারীর পূর্বপরিচয়, স্কুলের সঙ্গে তার সম্পর্ক, অনলাইন কার্যক্রম এবং হামলার আগে তার গতিবিধি খতিয়ে দেখছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







