যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে কোনো দেশ সহযোগিতা করলে তাকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অভিযানে অংশ না নিতে প্রতিবেশী দেশসহ অন্যান্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (SNSC) সচিব মোহসেন রেজাই শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, কোনো দেশ যদি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করে, তাহলে তেহরান ওই দেশকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে।
মোহসেন রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ শুরু করেছে, কোনো দেশেরই তাতে অংশ নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি তিনি এই আহ্বান জানান।
তিনি জানান, কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের অংশ হলে ইরান প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে তাদের অবস্থান পরিবর্তনের আহ্বান জানাবে। তবে ওই দেশ সহযোগিতা অব্যাহত রাখলে তেহরান তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।
ইরানের নিরাপত্তাপ্রধানের বক্তব্যে শুধু কূটনৈতিক সতর্কতা নয়, সম্ভাব্য পাল্টা ব্যবস্থার ইঙ্গিতও রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ বাস্তবায়নে কোনো দেশ সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করলে তাদের স্বার্থও তেহরানের পাল্টা পদক্ষেপের আওতায় আসতে পারে।
এই হুঁশিয়ারির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নতুন করে কূটনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক বজায় রাখে, তাদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইরানের এই সতর্কবার্তার পেছনে রয়েছে ওয়াশিংটনের নতুন অর্থনৈতিক চাপের উদ্যোগ। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনীতিকে আরও বিচ্ছিন্ন করতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা অন্যান্য দেশ ও প্রতিষ্ঠানের ওপরও চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
ওয়াশিংটনের এই নীতির লক্ষ্য ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমিয়ে দেশটির ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানো। তবে তেহরান এরই মধ্যে স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপের সঙ্গে কোনো দেশ যুক্ত হলে তারাও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ নিয়ে এরই মধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান আগে থেকেই হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
হরমুজ ঘিরে যেকোনো নতুন উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, তেল পরিবহন ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও অস্থির রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বিরোধ যদি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার গণ্ডি পেরিয়ে অন্য দেশগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
আরও পড়ুন:







