News Ticker
221.png

ইরানি হ্যাকারদের হামলায় ৪ দিন বন্ধ ছিল যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র!

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৫৭

শেয়ার

শেয়ার

ইরানি হ্যাকারদের হামলায় ৪ দিন বন্ধ ছিল যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র!
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের সাইবার হামলায় যুক্তরাজ্যের একটি ছোট আকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র চার দিন বন্ধ ছিল বলে জানা গেছে। গত জুলাইয়ে ঘটে যাওয়া এই হামলাকে ব্রিটিশ বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের প্রথম সফল হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে হামলার কারণে যুক্তরাজ্যের জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ প্রথম এ হামলার খবর প্রকাশ করে। পরে যুক্তরাজ্যের সরকারও ঘটনাটি ঘটার কথা নিশ্চিত করেছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে আক্রান্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নাম বা সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসে সাইবার হামলার পর ছোট আকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি চার দিন পর্যন্ত অফলাইনে ছিল। হামলার পর কর্মীরা সেটিকে পুনরায় চালু করতে কাজ করেন এবং শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক করা হয়। 

ব্রিটিশ কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, আক্রান্ত স্থাপনাটি জাতীয় গ্রিডের তুলনায় অত্যন্ত ছোট। ফলে এটি বন্ধ থাকায় দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ঘাটতি তৈরি হয়নি এবং সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহও ঝুঁকির মুখে পড়েনি। 

হামলাটি ইরানি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা চালিয়েছে বলে ব্রিটিশ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে ইরান সরকার সরাসরি হামলার নির্দেশ দিয়েছিল।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ও সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা হামলাকারীদের ইরানের সঙ্গে ‘সম্পৃক্ত’ বা ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। ফলে ঘটনাটির সঙ্গে ইরানের সরাসরি রাষ্ট্রীয় সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো আলাদাভাবে নিশ্চিত হয়নি।

ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার (NCSC) এবং জ্বালানি নিরাপত্তা ও নেট-জিরো মন্ত্রণালয় দেশের বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্রিটেনের জ্বালানি অবকাঠামো অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক এবং এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। 

ব্রিটিশ বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার সময়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের পানি সরবরাহ অবকাঠামোয় সাইবার হামলার ঘটনাও প্রায় একই সময়ে ঘটে। মার্কিন পানি ব্যবস্থার বেশ কিছু স্থাপনায় সাইবার অনুপ্রবেশের খবর পাওয়া যায়।

দুটি ঘটনার মধ্যে সমন্বয় ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে একই সময়ে পশ্চিমা দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সাধারণত একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকে। এমন কোনো স্থাপনার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করে সেটিকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা তাই সাইবার নিরাপত্তার দৃষ্টিতে তাৎপর্যপূর্ণ।

যদিও এবারের হামলা জাতীয় গ্রিডে কোনো প্রভাব ফেলেনি, তারপরও ছোট উৎপাদনকেন্দ্রের মতো অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রবেশের সক্ষমতা বড় অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় এই হামলার খবর সামনে এলো। যুক্তরাজ্য এর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অভিযান পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরান-সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পশ্চিমা অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সাইবার হামলা বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ  

ChannelNRB Footer