News Ticker
221.png

থাইল্যান্ডের দক্ষিণে একযোগে অর্ধ-শতাধিক স্থানে আগুন ও ককটেল হামলা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০২

শেয়ার

শেয়ার

থাইল্যান্ডের দক্ষিণে একযোগে অর্ধ-শতাধিক স্থানে আগুন ও ককটেল হামলা
ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের তিন সীমান্তপ্রদেশ নারাথিওয়াত, পাত্তানি ও ইয়ালায় একযোগে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ, বোমা হামলা ও নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) রাত থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মাত্র কয়েক ঘণ্টায় মোট ৫১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিচালনা কমান্ড (ISOC)। এসব হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।

থাই নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত প্রায় ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দক্ষিণের তিন সীমান্তপ্রদেশে সমন্বিতভাবে হামলাগুলো চালানো হয়। হামলার বড় অংশ ছিল অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণ। এছাড়া সরকারি স্থাপনা ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত বা পুড়িয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে নাশকতার ঘটনাও ঘটে।

ISOC-এর হিসাবে, নারাথিওয়াতে ২২টি, পাত্তানিতে ১১টি এবং ইয়ালায় ১৮টি ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে নারাথিওয়াতেই হামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 

স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বিস্ফোরক ব্যবহার করে নাশকতা চালায়। একটি 7-Eleven দোকানে আগুন লাগানো হয়। কয়েকটি সরকারি অফিস, যানবাহন, টেলিযোগাযোগ টাওয়ার, বিদ্যুতের খুঁটি ও অন্যান্য অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা হয়।

নারাথিওয়াতে একটি সড়কে বিস্ফোরণে দুই নারী ও এক তরুণ আহত হন। আহত তিনজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

হামলার প্রভাব পড়েছে রেল যোগাযোগেও। বিস্ফোরণে রেললাইনের কংক্রিটের স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নারাথিওয়াতের Maruebo ও Tanyong Mat স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে। নিরাপত্তা ও প্রকৌশল কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে রেললাইনে বিস্ফোরণের চিহ্ন পান। 

সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটায় নারাথিওয়াত প্রদেশে রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন হামলাস্থল ঘিরে রেখে তদন্ত শুরু করেছে এবং সম্ভাব্য হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। 

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল রোববার সকালে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক করেন। বৈঠকে দক্ষিণাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এসব হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে থাইল্যান্ডের মুসলিম-অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাত চলে আসছে। পাত্তানি, ইয়ালা ও নারাথিওয়াতকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতে ২০০৪ সাল থেকে ৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

এই অঞ্চলের সংঘাতের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন Barisan Revolusi Nasional (BRN)-এর নাম দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। সম্প্রতি থাই সরকার এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে শান্তি আলোচনা নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

তবে শনিবার রাতের সমন্বিত হামলার সঙ্গে BRN বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি থাই কর্তৃপক্ষ।

রোববার সকাল থেকে নিরাপত্তা বাহিনী হামলাস্থলগুলোতে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত চালাচ্ছে। সরকারি স্থাপনা, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং রেল যোগাযোগকে লক্ষ্য করে নাশকতার ঘটনাগুলো বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আরও হামলা ঠেকাতে দক্ষিণাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ChannelNRB Footer