News Ticker
221.png

যুক্তরাজ্যে কেমোথেরাপি দিয়ে সুস্থ করা হলো ক্যানসারে আক্রান্ত অজগর সাপ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৫০

শেয়ার

শেয়ার

যুক্তরাজ্যে কেমোথেরাপি দিয়ে সুস্থ করা হলো ক্যানসারে আক্রান্ত অজগর সাপ
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের চেস্টার চিড়িয়াখানায় ক্যানসারে আক্রান্ত একটি বিশাল অজগরকে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি বিশেষ পদ্ধতিতে সফলভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার পর ২৩ বছর বয়সী ও প্রায় ১৫ ফুট (৪ দশমিক ৫ মিটার) লম্বা রেটিকুলেটেড পাইথন ‘জোডি ফস্টার’ এখন ক্যানসারমুক্ত এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। চিড়িয়াখানার চিকিৎসকরা মনে করছেন, সাপের শরীরে এ ধরনের ইলেক্ট্রোকেমোথেরাপি প্রয়োগের ঘটনা বিশ্বে প্রথম। 

চেস্টার চিড়িয়াখানায় প্রায় দুই দশক ধরে থাকা জোডি ফস্টার খাওয়া কমিয়ে দিয়েছিল এবং আগের তুলনায় অনেক বেশি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। পরীক্ষায় তার চোয়ালে ফাইব্রোসারকোমা, অর্থাৎ একটি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার শনাক্ত হয়।

২০২৪ সালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারটি অপসারণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে সেটি আবার ফিরে আসে। এবার টিউমারটি চোয়ালের হাড়েও আক্রমণ করতে শুরু করে। ফলে খাবার গ্রহণে জোডির সমস্যা বাড়তে থাকে এবং তার জীবন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

চেস্টার চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি দল লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করে জোডির জন্য ইলেক্ট্রোকেমোথেরাপি (Electrochemotherapy) পদ্ধতিটি অভিযোজিত করে।

এই চিকিৎসায় প্রথমে ক্যানসার আক্রান্ত টিস্যু ও চোয়ালের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। এরপর ক্যানসারের ওষুধ ব্লিওমাইসিন (bleomycin) প্রয়োগের পাশাপাশি টিউমারের এলাকায় নিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক পালস দেওয়া হয়। বৈদ্যুতিক পালস ক্যানসার কোষের আবরণকে সাময়িকভাবে বেশি ভেদ্য করে তোলে, ফলে ওষুধ কোষের ভেতরে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে পারে।

জোডির বিশাল আকৃতির কারণে চিকিৎসাটিও ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। তার জন্য উপযুক্ত আকারের অপারেশন টেবিল না থাকায় দুটি অপারেশন টেবিল পাশাপাশি জুড়ে প্রায় ডাবল বেডের সমান জায়গা তৈরি করা হয়।

অপারেশনের সময় তার শরীরের তাপমাত্রা স্থিতিশীল রাখতে গরম কম্বল ও উষ্ণ বাতাসের ব্যবস্থা করা হয়। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলে অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া। চিকিৎসকদের মতে, জোডি এরপর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। 

চিকিৎসার কয়েক মাস পর করা পরীক্ষায় জোডির শরীরে ক্যানসার ফিরে আসার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তার ক্ষুধাও স্বাভাবিক হয়েছে। এখন সে নিজের আবাসস্থলে ঘোরাফেরা করছে এবং আগের মতোই সক্রিয় আচরণ করছে।

চোয়ালের একটি অংশ অপসারণ করা হলেও তার শিকার ধরার ও খাবার গেলার স্বাভাবিক সক্ষমতা নষ্ট হয়নি। চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জোডি এখন আবার স্বাভাবিকভাবে খাবার খাচ্ছে। 

সাপটির নামকরণের পেছনেও রয়েছে মজার গল্প। প্রায় ২০ বছর আগে চেস্টার চিড়িয়াখানায় আসার সময় তার কাগজপত্রে ‘JF’ লেখা ছিল, যার অর্থ ছিল ‘juvenile female’। চিড়িয়াখানার কর্মীরা মজা করে হলিউড অভিনেত্রী জোডি ফস্টারের নামে তার নাম রাখেন।

চেস্টার চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ইয়ান অ্যাশপোলের মতে, টিউমারটি চোয়ালের হাড় ধ্বংস করতে থাকায় শুধু অস্ত্রোপচার যথেষ্ট হবে না—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাই ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে সাপটির ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রোকেমোথেরাপি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই চিকিৎসা সফল হওয়ায় ভবিষ্যতে অন্যান্য সরীসৃপ ও প্রাণীর জটিল ক্যানসারের চিকিৎসায়ও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পুরো চিকিৎসা পদ্ধতির বিস্তারিত তথ্য বৈজ্ঞানিকভাবে প্রকাশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে বিশ্বের অন্যান্য ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞরা এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারেন। 

সূত্র: চেস্টার জু

ChannelNRB Footer