News Ticker
221.png

গিনিতে ময়লার ভাগাড় ধসে নিহত অন্তত ৩০

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:১৬

আপডেট: ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:১৯

শেয়ার

শেয়ার

গিনিতে ময়লার ভাগাড় ধসে নিহত অন্তত ৩০
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে ভয়াবহ ময়লার ভাগাড় ধসে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর এবং ১৬ জন সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

রোববার (২৩ আগস্ট) ভোররাতে কোনাক্রির গবেসিয়া কমিউনের দার এস সালাম এলাকার বিশাল ময়লার ভাগাড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাত প্রায় ২টার দিকে ভারী বৃষ্টির পর বিপুল পরিমাণ বর্জ্যের স্তূপ ধসে পড়ে। এতে আশপাশের তাঁবু, ঝুপড়ি ও বসতবাড়ি ময়লার নিচে চাপা পড়ে। 

দার এস সালাম কোনাক্রির সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত ময়লার ভাগাড়। ধসের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। উদ্ধারকর্মীরা খননযন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিত ও নিহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ময়লার স্তূপের ধস এতটাই বড় ছিল যে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা চাপা পড়ে।

ভারী বৃষ্টিই ধসের প্রধান কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার আগে থেকেই ভাগাড়টির ঝুঁকি নিয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ ছিল। 

দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগে গিনি সরকার জানিয়েছিল, ঝুঁকিপূর্ণ এই ভাগাড়টি বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং এখানকার বর্জ্য কোনাক্রির বাইরে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। বর্ষাকালে ধস ও অন্যান্য দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক মানুষ তখনও এলাকায় অবস্থান করছিলেন। 

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ। তিনি উদ্ধার তৎপরতা তদারক করেন এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। সরকার দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে। 

উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধসে পড়া বিপুল পরিমাণ বর্জ্যের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন। 

গিনির এই মর্মান্তিক ঘটনা বর্ষাকালে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর আগে ২০১৭ সালেও একই ভাগাড়ে ভারী বৃষ্টির পর প্রাণঘাতী ধসের ঘটনা ঘটেছিল। 

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer