কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে বিভিন্ন সেবার বিপরীতে ফি নেওয়ার বিধানসংবলিত একটি খসড়া অনুমোদন করেছে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটি। রোববার কমিটিতে প্রস্তাবটির ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুমোদন করা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক প্রস্তাবের অংশ হিসেবে এই বিধান আনা হয়েছে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে কমিটির বৈঠকে আলোচনা স্থগিত ছিল।
কমিটির মুখপাত্র হাসান কাশকাভির বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী অনুমোদিত দেশের জাহাজের কাছ থেকে নৌ-চলাচল, পরিবেশগত সেবা, বিশেষ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ, বীমা, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সেবার জন্য ফি নেওয়া হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব অর্থ ইরানি রিয়াল অথবা তেহরান নির্ধারিত অন্য কোনো মুদ্রায় আদায় করা হতে পারে।
কমিটি খসড়াটি অনুমোদন করলেও এটি এখনো আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। প্রস্তাবটি ইরানের পূর্ণ পার্লামেন্টে অনুমোদনের পর আরও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এরপর অনুমোদন মিললে তা আইনে পরিণত হতে পারে।
অর্থাৎ, কমিটির অনুমোদনকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। তবে প্রস্তাবটি হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও সেখান দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে তেহরানের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২২ ও ২৩ আগস্ট মিলিয়ে ২০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। সংঘাতের আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গত সপ্তাহে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কম ছিল।
এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজস্ব ট্রানজিট নিয়ম মানার বিষয়ে জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছে। নিয়ম ভঙ্গ করলে জরিমানা, আটক কিংবা জাহাজ জব্দের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ফলে এখানে জাহাজ চলাচলের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ বা খরচ আরোপ করা হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং তেলবাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত ফি কার্যকর হলে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবহন ব্যয় ও ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ দিয়ে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স,
আরও পড়ুন:







