News Ticker
221.png

ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনার সন্ধান, খবর পেয়ে ১০ হাজার মানুষ হাজির

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:৫০

শেয়ার

শেয়ার

ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনার সন্ধান, খবর পেয়ে ১০ হাজার মানুষ হাজির
ছবি: সংগৃহীত

হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনার সন্ধান পেয়েছিলেন কেনিয়ার এক ছাগলপালক। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পশ্চিম কেনিয়ার প্রত্যন্ত চেপোরোর গ্রামে শুরু হয় সোনার সন্ধানে মানুষের ঢল। একপর্যায়ে সেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ জড়ো হন।

৩৩ বছর বয়সী মানাসে লোমাচার পেশায় ছাগলপালক। হারিয়ে যাওয়া একটি ছাগল খুঁজতে গিয়ে নদীর তীরে কয়েকজন নারীকে সোনা খুঁজতে দেখেন তিনি। কৌতূহলবশত তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে নিজেও সোনা অনুসন্ধান শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রায় ৩ গ্রাম সোনা পাওয়ার দাবি করেন তিনি।

পরে সেই সোনা ৩৬ হাজার কেনিয়ান শিলিংয়ে বিক্রি করেন লোমাচার, যা প্রায় ২৮০ মার্কিন ডলারের সমান। তার এই ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে চেপোরোরে সোনা খুঁজতে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, সোনার সন্ধানে একপর্যায়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ চেপোরোরে জড়ো হয়েছিলেন। কেনিয়ার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও প্রতিবেশী উগান্ডা থেকে মানুষ সেখানে ছুটে আসেন।

কয়েক সপ্তাহ আগেও যেখানে ছিল ঝোপঝাড় ও পশুচারণের জমি, সেখানে এখন অসংখ্য গর্ত, মাটির স্তূপ এবং অস্থায়ী খনিশিবির দেখা যাচ্ছে। তবে বর্তমানে মানুষের সংখ্যা কমে প্রায় ২ হাজার ৫০০-তে নেমে এসেছে।

তবে স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, লোমাচারের পাওয়া সোনাই এই ‘গোল্ড রাশ’-এর একমাত্র কারণ নয়। ওয়েস্ট পোকট কাউন্টির ডেপুটি কমিশনার স্যামুয়েল কিয়ারির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরুতে ওই এলাকায় একদল তরুণ তুলনামূলক বড় পরিমাণ সোনা খুঁজে পান। পরদিন কয়েকজন নারীও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা পাওয়ার দাবি করেন। পরে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া সেই খবর আরও বড় আকার ধারণ করে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, এখন পর্যন্ত পাওয়া সোনার পরিমাণ খুব বেশি নয়। ব্যক্তিগতভাবে পাওয়া সোনার মূল্য কয়েকশ কেনিয়ান শিলিং থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৭৮ হাজার শিলিং বা ৬০০ ডলার পর্যন্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে মাটির নিচে প্রকৃতপক্ষে কত পরিমাণ সোনা রয়েছে এবং সেটি বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা লাভজনক হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ জন্য আরও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সোনার সন্ধানে মানুষের ভিড়কে কেন্দ্র করে চেপোরোরে নতুন ব্যবসাও গড়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবে, খনিস্থলের আশপাশে ইতোমধ্যে ২০০টির বেশি ব্যবসা চালু হয়েছে। খাবার, পানি, কোমল পানীয়, রুটি, দুধসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

তবে হাজার হাজার মানুষের আকস্মিক আগমনে এলাকার দুর্বল অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, পয়োনিষ্কাশন ও থাকার ব্যবস্থা না থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।

সোনার আশায় অনেকে মাটির আরও গভীরে গর্ত করছেন। খনন করা মাটি ও পাথর কাছের ওর্তুম শহরে নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়ায় কী পরিমাণ সোনা পাওয়া যাচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে ওই এলাকায় বড় ধরনের খনন কার্যক্রমের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। 

লোমাচারের আশা, সরকারি সহায়তা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হলে স্থানীয় মানুষ নিয়ন্ত্রিতভাবে সোনা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তার মতে, সঠিকভাবে অনুসন্ধান চালানো গেলে চেপোরোরে আরও খনিজ সম্পদের সন্ধান মিলতে পারে এবং এতে দরিদ্র এই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসতে পারে।

ChannelNRB Footer