News Ticker
221.png

ইরানে বিশাল গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান, মজুত ৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের বেশি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:০৫

শেয়ার

শেয়ার

ইরানে বিশাল গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান, মজুত ৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের বেশি
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন একটি ক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশটির তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ জানিয়েছেন, নতুন আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রে ৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনযোগ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের তেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন ক্ষেত্র থেকে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ দেশটির অন্যতম প্রধান গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্সের একটি ধাপের প্রায় ১৫ বছরের উৎপাদনের সমান। ফলে আবিষ্কারটি ইরানের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। 

কর্মকর্তাদের হিসাবে, নতুন ক্ষেত্রটিতে প্রায় ৭২-৭৩ শতাংশ গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হতে পারে। এর ফলে মোট ৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের বেশি মজুতের মধ্য থেকে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট ব্যবহারযোগ্য গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরানের তেলমন্ত্রী নতুন আবিষ্কৃত গ্যাসকে ‘সুইট গ্যাস’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ এতে ক্ষতিকর হাইড্রোজেন সালফাইডের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। এর ফলে গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয় কম হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

নতুন ক্ষেত্রটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস কনডেনসেটও রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্যাস ও কনডেনসেট মিলিয়ে ভবিষ্যতে দেশের জন্য বিপুল অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি হতে পারে। 

ইরানের জ্বালানি খাত সাম্প্রতিক সময়ে নানা চাপের মুখে রয়েছে। যুদ্ধ, অবকাঠামোগত ক্ষতি, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতার কারণে দেশটির গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধানকে তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে গ্যাসের মজুত আবিষ্কার করলেই দ্রুত উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে না। অবকাঠামো নির্মাণ, কূপ খনন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের পর বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন গ্যাসক্ষেত্রটি ভবিষ্যতে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত উৎপাদন সম্ভব হলে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাস বা সংশ্লিষ্ট জ্বালানি পণ্য রপ্তানির সুযোগও তৈরি হতে পারে।

তবে নিষেধাজ্ঞা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মজুতকে কত দ্রুত অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত করা যাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। 

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ChannelNRB Footer