ইরানের মুদ্রা রিয়াল ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। সোমবার দেশটির অনানুষ্ঠানিক বা খোলাবাজারে এক মার্কিন ডলারের দাম উঠেছে প্রায় ২০ লাখ ২০ হাজার রিয়াল। এর মধ্য দিয়ে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর নতুন রেকর্ড নিম্নে পৌঁছেছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (AP) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার বাজার খোলার সময় অনানুষ্ঠানিক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য প্রায় ২.০২ মিলিয়ন রিয়ালে পৌঁছায়। অন্যদিকে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরকারি হার ছিল প্রায় ১৫ লাখ রিয়াল প্রতি ডলার। তবে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের বড় অংশ বাস্তবে অনানুষ্ঠানিক বাজারের হারেই লেনদেন করে।
রিয়ালের এই পতন সাম্প্রতিক কয়েক দিনের দ্রুত অবমূল্যায়নের ধারাবাহিকতা। রোববারই খোলাবাজারে ডলারের দাম ২০ লাখ রিয়ালের মাইলফলক স্পর্শ করেছিল।
ইরানের মুদ্রাবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি কতটা অস্থির হয়ে উঠেছে, তা গত এক সপ্তাহের বিনিময় হারেই স্পষ্ট। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ডলারের দাম ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৬৫ হাজার রিয়াল। এরপর এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ডলারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ২০ লাখ রিয়ালের ওপরে চলে যায়। এক বছর আগের তুলনায় ডলারের দামও দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।
রিয়ালের এই পতনের ফলে আমদানি করা পণ্য, খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ আরও তীব্র হতে পারে।
ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল প্রবৃদ্ধির চাপে রয়েছে। চলমান সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনাও বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ওয়াশিংটন এসব পদক্ষেপকে ইরানের ওপর আরও বড় অর্থনৈতিক চাপ তৈরির উদ্যোগ হিসেবে দেখছে। এর ফলে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রিয়ালের দ্রুত অবমূল্যায়নের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মূল্য কমে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায় খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফও দেশের অর্থনৈতিক দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, জনগণের খাদ্য ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা না গেলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, বাণিজ্যিক বাধা এবং চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে রিয়ালের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সরকার কী ধরনের মুদ্রানীতি ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেয়, তার ওপর পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)
আরও পড়ুন:







