ভারতের বিহারে গঙ্গার পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। রোববার ফোনে দুই মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে এ বিষয়ে কথা হয়।
বিহারের বিভিন্ন এলাকায় গঙ্গার পানি বাড়তে থাকায় নিচু এলাকাগুলোতে বন্যা ও জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনের থেকে মোকামা পর্যন্ত গঙ্গার পানি বাড়ায় বিস্তীর্ণ এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জানিয়েছেন, গঙ্গার প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যারাজের গেট খুললে পানির প্রবাহ বাড়বে এবং বিহারে বন্যার চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
রোববার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন সম্রাট চৌধুরী। এ সময় তিনি বিহারের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে ফারাক্কা ব্যারাজের সবকটি গেট খুলে দেওয়ার আবেদন জানান।
তবে সব গেট খোলার বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফারাক্কা ব্যারাজ দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পানি ব্যবস্থাপনা এবং নদীর প্রবাহ নিয়ে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিহারে বন্যার সময় ব্যারাজের কার্যক্রম নিয়েও বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অতীতেও বিহারের রাজনৈতিক নেতৃত্ব গঙ্গায় পানির প্রবাহ ও ফারাক্কার ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তবে ফারাক্কার সব গেট খুলে দিলেই বিহারের বন্যা পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আসবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। গঙ্গার উজান-ভাটির পানিপ্রবাহ, নদীর পলি জমা, অন্যান্য বাঁধ থেকে পানির প্রবাহ এবং বৃষ্টিপাত—সবগুলো বিষয়ই বন্যা পরিস্থিতিতে ভূমিকা রাখে।
ফারাক্কা ব্যারাজ গঙ্গার ওপর অবস্থিত হওয়ায় এর পানিপ্রবাহের পরিবর্তন শুধু ভারতের বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ নয়, বাংলাদেশের নদ-নদীর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে গঙ্গা-পদ্মার পানির প্রবাহের পরিবর্তন বাংলাদেশেও নদীর পানি ও বন্যা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বর্তমানে ফারাক্কার সব গেট খোলার ফলে বাংলাদেশে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে নদীর পানি প্রবাহ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
বিহারের পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় রাজ্য প্রশাসন নদীর পানি ও বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে ফারাক্কা ব্যারাজের পানিপ্রবাহ নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
সূত্র: দা নিউজ মিল
আরও পড়ুন:







