গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের দিকে ঘুড়ি, বেলুন ও ড্রোন ওড়ানোর অভিযোগ তুলে হামলা জোরদার এবং ফিলিস্তিনিদের আরও এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। ইসরায়েল বলেছে, গাজা থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে ঘুড়ি বা অন্যান্য উড়ন্ত বস্তু পাঠানো অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে যেসব এলাকা থেকে এসব বস্তু উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গাজা থেকে ইসরায়েলের দিকে বেশ কয়েকটি ঘুড়ি উড়ে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধার করা ঘুড়িগুলোর কয়েকটিতে কোনো সন্দেহজনক বা বিপজ্জনক উপাদান পাওয়া যায়নি এবং সেগুলো তাৎক্ষণিক কোনো বিপদ তৈরি করেনি।
তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, ঘুড়িগুলোকে ড্রোনের মতোই বিবেচনা করা হবে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এসব ঘুড়ি বা উড়ন্ত বস্তুকে হামলা কিংবা নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় অনেক শিশু ধ্বংসস্তূপ ও আশ্রয়শিবিরের মধ্যে ঘুড়ি উড়িয়ে কিছুটা স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু ঘুড়ি ওড়ানোকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের সামরিক হুমকিতে সেই সামান্য আনন্দও আতঙ্কে পরিণত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বিশেষ করে গাজার দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলের কাছেও শিশুদের ঘুড়ি ওড়াতে দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে ঘুড়ি তাদের কাছে বিনোদনের পাশাপাশি স্বাভাবিক শৈশবের একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলি নেতারা বলেছেন, ঘুড়ি, বেলুন ও ড্রোন উৎক্ষেপণ বন্ধ না হলে গাজায় সামরিক হামলা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ীদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর কথাও বলা হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের এই বক্তব্যের মধ্যেই গাজায় নতুন করে বিমান হামলার ঘটনাও ঘটেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩ আগস্ট ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত দুজন নিহত হন, যাদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল। হামলায় আরও কয়েকজন আহত হন। ইসরায়েল এসব হামলাকে গাজা থেকে বেলুন, ড্রোন ও ঘুড়ি উৎক্ষেপণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইসরায়েলের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় হামাস অভিযোগ করেছে, ঘুড়ি ওড়ানোর ঘটনাকে সামনে এনে ইসরায়েল গাজায় আরও হামলা চালানোর অজুহাত তৈরি করছে। সংগঠনটির মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা ও বাস্তুচ্যুতির হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়।
২০২৫ সালের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে ঘুড়ি ওড়ানোকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের হামলা বাড়ানোর হুমকিতে গাজায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক জনগণ, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আরও পড়ুন:







