News Ticker
221.png

২ মিনিটের ব্যবধানে দু'বার ভূমিকম্পে কাঁপল কোস্টারিকা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:২৬

শেয়ার

শেয়ার

২ মিনিটের ব্যবধানে দু'বার ভূমিকম্পে কাঁপল কোস্টারিকা
ছবি: সংগৃহীত

মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে পরপর দুটি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে মধ্য আমেরিকার দেশ কোস্টারিকা। সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোরে রাজধানী সান হোসের কাছের ভাসকেজ দে করোনাদো এলাকায় আঘাত হানে ভূমিকম্প দুটি। প্রথম কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪ এবং দ্বিতীয়টির মাত্রা ৪ দশমিক ৮। পরপর কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সেন্ট্রাল ভ্যালিজুড়ে।

স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩৭ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। কোস্টারিকার ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল নেটওয়ার্ক (RSN) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কাসকাজাল দে করোনাদোর প্রায় ১১ কিলোমিটার উত্তরে এবং গভীরতা ছিল মাত্র ৭ কিলোমিটার। অগভীর হওয়ায় রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় কম্পনটি বেশ জোরালোভাবে অনুভূত হয়। 

এর মাত্র দুই মিনিট পর, রাত ১টা ৩৯ মিনিটে একই এলাকার কাছাকাছি দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। RSN-এর হিসাবে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮ এবং গভীরতা প্রায় ১০ কিলোমিটার। 

পরপর দুটি ভূমিকম্পে সান হোসে ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। সেন্ট্রাল ভ্যালির বাসিন্দারা কম্পনের সময় ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। কোথাও কোথাও ঘরের জিনিসপত্র পড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সান হোসে, মোরাভিয়া, হাটিলো, আলাহুয়েলা ও আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রাথমিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। ভাসকেজ দে করোনাদো এলাকায় একটি বাড়ির দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। মোরাভিয়ার সান ভিসেন্তে এলাকায় একটি বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে যাওয়ার খবরও পাওয়া যায়। 

ভূমিকম্পের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ রুট ৩২-এর কিছু অংশে পাথর, মাটি ও গাছের ডাল পড়ে যায়। বিশেষ করে ব্রাউলিও কারিলো ন্যাশনাল পার্কের কাছাকাছি এলাকায় ধসের কারণে সান হোসে-লিমন মহাসড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে কর্মীরা রাস্তা পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। 

প্রধান দুটি ভূমিকম্পের পর কোস্টারিকার বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংস্থা একের পর এক আফটারশক শনাক্ত করে। দিনের প্রথম কয়েক ঘণ্টাতেই কয়েক ডজন পরবর্তী কম্পন রেকর্ড করা হয়। RSN ও দেশটির ভলকানোলজিক্যাল অ্যান্ড সিসমোলজিক্যাল অবজারভেটরি (OVSICORI)-এর হিসাবে আফটারশকের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বড় বা মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের পর এ ধরনের আফটারশক স্বাভাবিক ঘটনা। তবে পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী কম্পন হবে কি না, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তাই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

ভূমিকম্পটির মাত্রা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থার হিসাবে কিছু পার্থক্য দেখা গেছে। RSN প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ৫ দশমিক ৪ নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে OVSICORI ৫ দশমিক ০ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা USGS ৪ দশমিক ৯ মাত্রা উল্লেখ করেছে। একই ভূমিকম্প বিভিন্ন সংস্থা ভিন্ন পদ্ধতি ও স্টেশন-তথ্য ব্যবহার করে হিসাব করায় এ ধরনের সামান্য পার্থক্য স্বাভাবিক।

সিসমোলজিস্টদের বিশ্লেষণে ভূমিকম্পগুলোর উৎপত্তি স্থানীয় একটি সক্রিয় ফল্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পগুলোর অগভীর গভীরতার কারণেই রাজধানী ও আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কম্পনের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়েছে।

কোস্টারিকা এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় বিভিন্ন প্লেট ও ফল্টের কারণে নিয়মিত ভূমিকম্প হয়। ফলে দেশটির কর্তৃপক্ষ ও সিসমোলজিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলো সার্বক্ষণিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ করে থাকে।

পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং পরবর্তী কয়েক ডজন আফটারশকের পরও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানি বা ব্যাপক ধ্বংসের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সড়কে ধস ও বিচ্ছিন্ন অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি স্থানীয়ভাবে কিছুটা ভোগান্তি তৈরি করেছে। 

সূত্র: দা রিও টাইমস 

ChannelNRB Footer