News Ticker
221.png

হাইতির কেনস্কফে সশস্ত্র গ্যাংয়ের হামলায় নিহত অন্তত ৪৭

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:৩০

শেয়ার

শেয়ার

হাইতির কেনস্কফে সশস্ত্র গ্যাংয়ের হামলায় নিহত অন্তত ৪৭
ছবি: সংগৃহীত

ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাংয়ের ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের উপকণ্ঠের পাহাড়ি এলাকা কেনস্কফে (Kenscoff) রোববার রাতে এ হামলা চালানো হয়। জাতিসংঘ জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা প্রাথমিক এবং উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম এগিয়ে গেলে তা আরও বাড়তে পারে। 

স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে সশস্ত্র গ্যাংয়ের সদস্যরা কেনস্কফ এলাকায় অভিযান শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা বিভিন্ন বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং নির্বিচারে গুলি চালায়। হামলার পর সোমবার সকালে রাস্তায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

হামলার শিকারদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ ছিলেন, যারা এর আগেও গ্যাং সহিংসতার কারণে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে কেনস্কফে আশ্রয় নিয়েছিলেন। স্থানীয় মেয়র মাসিওঁ জ্যাঁ জানিয়েছেন, হামলাকারীরা একটি গির্জায় আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষের ওপরও হামলা চালায়। কয়েকজনকে হত্যার পাশাপাশি অনেকে আহত ও অপহৃত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

হামলার পর স্বজনদের মরদেহ খুঁজে বের করতে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় এক কৃষক জানিয়েছেন, হামলায় তিনি পরিবারের ১৪ জন সদস্যকে হারিয়েছেন এবং আরও কয়েকজনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলের কাছেই একটি পুলিশ স্টেশন থাকা সত্ত্বেও হামলাকারীদের ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

অনেক বাসিন্দা স্থানীয় পুলিশ প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, কেনস্কফে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাংয়ের হামলা চললেও সরকার ও পুলিশ স্থানীয় জনগণকে যথাযথ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। 

হাইতি সরকারের পক্ষ থেকে হামলাটিকে ‘জঘন্য’ বলে নিন্দা জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ে ফিলস-এমের কার্যালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। 

রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোর ওপর অবস্থিত কেনস্কফ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। গত বছর থেকে অঞ্চলটিতে সশস্ত্র গ্যাংয়ের প্রায় এক ডজন হামলা হয়েছে। এসব হামলায় হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি অপহরণ, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। 

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে মাত্র দুই মাসের হামলায় কেনস্কফ এলাকায় ২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ২০০টি বাড়ি ধ্বংস বা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় প্রায় ৩ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

হাইতিতে গত কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি সশস্ত্র গ্যাংয়ের প্রভাব দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন গ্যাং জোট নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তায় দেশটির দুর্বল পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সহিংসতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। 

চলমান সহিংসতায় হাইতিতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জাতিসংঘের হিসাবে উঠে এসেছে। খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই দেশটি গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে।

গ্যাং সহিংসতার কারণে হাইতির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রায় এক দশক পর চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশটিতে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ওপর গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নির্বাচনের পরিবেশকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। 

আন্তর্জাতিক সহায়তায় গ্যাং দমনে একটি বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শরৎকালের মধ্যে এ বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ৫ হাজার ৫০০-এর বেশি করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে কেনস্কফে সর্বশেষ হামলার সময় ওই বাহিনী নিরাপত্তা অভিযানে সরাসরি সহায়তা করছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

পরপর হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় কেনস্কফের বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে। যারা আগে সহিংসতার কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে এই এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন, তারাও এখন নতুন করে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer