ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তার তথ্য চেয়ে বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের পরিচয় বা অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ (Rewards for Justice) কর্মসূচি।
সোমবার, ২৪ আগস্ট এই ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তথ্যদাতাদের জন্য সম্ভাব্য পুনর্বাসন বা স্থানান্তরের সুযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
যেসব কর্মকর্তার তথ্য চাওয়া হয়েছে
মার্কিন কর্মসূচির তালিকায় থাকা পাঁচ কর্মকর্তা হলেন—
আহমাদ ওয়াহিদি — ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) কমান্ডার।
আলি আবদোল্লাহি — খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের প্রধান।
সাঈদ আগাজানি — IRGC-এর অ্যারোস্পেস ফোর্সের ড্রোন ইউনিটের কমান্ডার।
হামিদরেজা লাশগারিয়ান — IRGC-এর সাইবার-ইলেকট্রনিক কমান্ডের প্রধান।
মাজিদ খাদেমি — IRGC-এর গোয়েন্দা সংস্থার কমান্ডার।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিযোগ, তালিকাভুক্ত কর্মকর্তারা এমন সব IRGC ইউনিটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যেগুলো মার্কিন নাগরিক ও সামরিক সদস্যদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ক্ষতিকর সাইবার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।
ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, IRGC ইরানের রাষ্ট্রীয় কর্মকৌশলে সন্ত্রাসবাদকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিটি ব্যক্তির জন্য আলাদা করে ১ কোটি ডলার নিশ্চিত পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে—এমন নয়। মার্কিন কর্মসূচির ভাষায়, তথ্যের ধরন ও তার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হতে পারে।
অর্থাৎ এমন তথ্য প্রয়োজন, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা বা তাদের অবস্থান নির্ধারণে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। এর মধ্যেই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এর আগে ২০২৬ সালের মার্চেও যুক্তরাষ্ট্রের Rewards for Justice কর্মসূচি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিল।
নতুন তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে সাঈদ আগাজানির নাম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি IRGC-এর অ্যারোস্পেস ফোর্সের ড্রোন ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের ড্রোন কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিকভাবে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে হামিদরেজা লাশগারিয়ানের নেতৃত্বাধীন সাইবার-ইলেকট্রনিক কমান্ডের বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে। ফলে নতুন পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে ওয়াশিংটন একই সঙ্গে ইরানের সামরিক, ড্রোন, সাইবার ও গোয়েন্দা কাঠামোর ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুধু অর্থনৈতিক পুরস্কার নয়, তথ্যদাতাদের সম্ভাব্য পুনর্বাসন বা নিরাপদে অন্যত্র স্থানান্তরের সুযোগও দেওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ এমন তথ্যের বিনিময়ে যারা সহযোগিতা করবেন, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও কর্মসূচির আওতায় বিবেচনা করা হতে পারে।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
আরও পড়ুন:







