News Ticker
221.png

যে দেশে ভুঁড়িওয়ালা পুরুষদের সৌন্দর্যে পাগল নারীরা!

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৪৯

শেয়ার

শেয়ার

যে দেশে ভুঁড়িওয়ালা পুরুষদের সৌন্দর্যে পাগল নারীরা!
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন সমাজে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা এক নয়। কোথাও সুঠাম ও পেশিবহুল শরীরকে আকর্ষণীয় মনে করা হয়, আবার কোথাও বড় শরীরকে ধরা হয় সম্পদ, সামর্থ্য ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে। এমনই এক ব্যতিক্রমী সংস্কৃতি দেখা যায় আফ্রিকার ইথিওপিয়ার বোদি (Bodi) জনগোষ্ঠীর মধ্যে, যেখানে পুরুষের বড় ভুঁড়িকে সৌন্দর্য ও সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। 

ইথিওপিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওমো ভ্যালিতে বসবাসকারী বোদি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যে শরীরের আকারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে বড় ও ভারী শরীরকে মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

প্রতিবছর Ka’el নামে একটি ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে পুরুষেরা অংশ নেন। পরিবারের পক্ষ থেকে নির্বাচিত অবিবাহিত পুরুষরা কয়েক মাস ধরে ওজন বাড়ানোর প্রস্তুতি নেন। অনুষ্ঠান শেষে যিনি সবচেয়ে বেশি ওজন অর্জন করতে পারেন, তিনি বিশেষ সম্মান লাভ করেন।

এই প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি সাধারণ কোনো শরীরচর্চার মতো নয়। নির্বাচিত পুরুষরা প্রায় ছয় মাস নিজেদের কুঁড়েঘরে অবস্থান করেন এবং শারীরিক পরিশ্রম কমিয়ে বিপুল পরিমাণ খাবার ও পানীয় গ্রহণ করে দ্রুত ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করেন।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের খাদ্যতালিকায় দুধ ও গরুর রক্তের মিশ্রণসহ উচ্চ-ক্যালরির খাবার থাকে। উদ্দেশ্য একটাই—যতটা সম্ভব বড় ও ভারী হওয়া।

তবে এটি শুধু সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা নয়। বোদি সংস্কৃতিতে বড় শরীর ঐতিহাসিকভাবে সম্পদ, শক্তি ও সামাজিক মর্যাদার সঙ্গেও যুক্ত।

বোদি সমাজের প্রচলিত সৌন্দর্যবোধে বড় ভুঁড়িওয়ালা পুরুষকে আকর্ষণীয় মনে করার ধারণা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এ ধরনের শারীরিক গঠন পুরুষের সামাজিক মর্যাদা বাড়ায় এবং নারীদের কাছেও তাকে অধিক আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

তবে এটিকে পুরো ইথিওপিয়া বা দেশটির সব নারীর পছন্দ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত বোদি জনগোষ্ঠীর একটি নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক প্রথা।

Ka’el অনুষ্ঠানের দিন প্রতিযোগীরা নিজেদের শরীর মাটি ও ছাই দিয়ে সাজিয়ে আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন। এরপর তাদের শরীরের আকার ও ওজন বিবেচনা করা হয়। সবচেয়ে ভারী পুরুষকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় এবং তিনি দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক সম্মান অর্জন করেন। 

অর্থাৎ, যে সমাজে বিশ্বের অনেক জায়গায় অতিরিক্ত ওজনকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়, সেখানে বোদি সংস্কৃতিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শরীর ভারী করাই হয়ে ওঠে গর্ব ও মর্যাদার বিষয়।

নৃতাত্ত্বিক ও জনস্বাস্থ্য গবেষণায় দেখা গেছে, আফ্রিকার কিছু সমাজে ঐতিহাসিকভাবে পুরুষের বড় ভুঁড়িকে সমৃদ্ধি ও আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। ক্যামেরুনের বামিলেকে জনগোষ্ঠী নিয়ে গবেষণাতেও পুরুষের স্থূলতাকে সামাজিকভাবে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়নের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এর পেছনে খাদ্য, সম্পদ ও সামাজিক অবস্থানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যেখানে পর্যাপ্ত খাবার ও সম্পদ সবার কাছে সহজলভ্য ছিল না, সেখানে বড় শরীরকে সম্পদ ও সক্ষমতার দৃশ্যমান চিহ্ন হিসেবে বিবেচনা করা স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হতে পারে।

বড় ভুঁড়িকে সম্পদের প্রতীক হিসেবে দেখার প্রবণতা শুধু একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকার বিভিন্ন সংস্কৃতিতে বড় পেটকে ঐতিহ্যগতভাবে সম্পদ ও সমৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। 

তবে আধুনিক সময়ে এই ধারণা বদলাচ্ছে। অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়—ফলে স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে অনেক সমাজেই বড় শরীরকে সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে দেখার প্রবণতা ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে। 

বোদি জনগোষ্ঠীর এই সংস্কৃতি একটি বিষয় স্পষ্ট করে—সৌন্দর্যের কোনো একক বৈশ্বিক সংজ্ঞা নেই। এক সমাজে যে শারীরিক বৈশিষ্ট্যকে আকর্ষণীয় মনে করা হয়, অন্য সমাজে সেটিই হয়তো সম্পূর্ণ বিপরীতভাবে দেখা হতে পারে।

তাই ইথিওপিয়ার প্রত্যন্ত ওমো ভ্যালির বোদি জনগোষ্ঠীর কাছে বড় ভুঁড়ি শুধু শরীরের অতিরিক্ত মেদ নয়; এটি ঐতিহ্য, সামাজিক মর্যাদা ও পুরুষত্বের একটি সাংস্কৃতিক প্রতীক।

সূত্র: এপি নিউজ

ChannelNRB Footer