News Ticker
221.png

ফ্রান্সে ভয়াবহ টর্নেডোতে লণ্ডভণ্ড শত শত ঘরবাড়ি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৫১

শেয়ার

শেয়ার

ফ্রান্সে ভয়াবহ টর্নেডোতে লণ্ডভণ্ড শত শত ঘরবাড়ি
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে শক্তিশালী টর্নেডোর আঘাতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৩০০টি বাড়ি, আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ থেকে ৪১ জন। পুরো একটি গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অদ (Aude) অঞ্চলে আঘাত হানে শক্তিশালী টর্নেডো। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় এক হাজার বাসিন্দার ছোট্ট গ্রাম পোমাস (Pomas)। ঝড়ের তাণ্ডবে বহু বাড়ির ছাদ উড়ে যায়, কিছু ভবন আংশিকভাবে ধসে পড়ে এবং গাছপালা উপড়ে পড়ে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, টর্নেডোর আঘাতে অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। একটি বাড়ি ধসে পড়ার ঘটনায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীও আহত হয়েছেন।

উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে ১২০ জনের বেশি জরুরি কর্মী মোতায়েন করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো নিরাপদ কি না, তা যাচাই করতে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।

পোমাসে আনুমানিক ৩০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বাড়ির ছাদ পুরোপুরি বা আংশিকভাবে উড়ে গেছে। কোথাও কোথাও ভবনের ওপরের অংশও ধসে পড়েছে। আশপাশের ভারজেই (Verzeille) এলাকাতেও টর্নেডোর প্রভাব দেখা গেছে এবং বেশ কিছু বাড়ির জানালা ভেঙে গেছে। 

ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা কেউ আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির খবর পাওয়া যায়নি।

টর্নেডোর পাশাপাশি দক্ষিণ ফ্রান্সের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল ঝড় ও বজ্রপাতের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে প্রায় ১,৪০০ পরিবার বিদ্যুৎহীন ছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে। অন্যদিকে ঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় মোট প্রায় ২,৮০০টি বাড়ি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। 

ঝড়ের কারণে সড়ক ও রেল যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটে। কয়েকটি বিমানবন্দরেও ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা ঘটে।

টর্নেডোটি আঘাত হানার সময় অদ অঞ্চলে তীব্র বজ্রঝড়ের সতর্কতা জারি ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে কালো মেঘের নিচে শক্তিশালী ঘূর্ণিবায়ুর স্তম্ভ তৈরি হয়ে দ্রুত এগিয়ে যেতে দেখা যায়।

আবহাওয়া সংস্থা মেতো-ফ্রান্সের তথ্য অনুযায়ী, কাছাকাছি এলাকায় ঘণ্টায় প্রায় ১১৭ কিলোমিটার (৭৩ মাইল) বেগের ঝোড়ো হাওয়া রেকর্ড করা হয়েছে। 

ফ্রান্সে প্রতিবছর কয়েক ডজন টর্নেডো দেখা গেলেও অধিকাংশই তুলনামূলক দুর্বল। এবারের ঘটনাটি তাই বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে বিরল ও অত্যন্ত ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

টর্নেডোর আগে দক্ষিণ ফ্রান্সে তীব্র গরমের একটি পর্যায় চলছিল। পরে বজ্রঝড়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়। একই খারাপ আবহাওয়ার কারণে অদ অঞ্চলে অনুষ্ঠিত ভুয়েল্তা আ এস্পানিয়া সাইক্লিং প্রতিযোগিতার তৃতীয় ধাপও বাতিল করতে হয়। 

যেসব বাড়ি বসবাসের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়েছে, সেসব পরিবারের জন্য জরুরি আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো পরীক্ষা করে নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত বাসিন্দাদের সেখানে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না। 

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এই টর্নেডো স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি করেছে। ধ্বংসস্তূপ সরানো, ভবনের নিরাপত্তা যাচাই এবং বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিষেবা পুনরুদ্ধারের কাজ এখন চলছে।

সূত্র: রয়টার্স

 

ChannelNRB Footer