News Ticker
221.png

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে: জাতিসংঘ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:০১

শেয়ার

শেয়ার

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে: জাতিসংঘ
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে এবং দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দমন-পীড়ন ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে মিয়ানমারের চলমান সংঘাত, সহিংসতা ও মানবিক সংকটের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা, গণতন্ত্রপন্থী শক্তি এবং বিভিন্ন সশস্ত্র জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতে গত পাঁচ বছরে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনটি ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও মানবিক সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বিশেষভাবে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, নির্বিচারে আটক, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, নির্যাতন এবং মানবিক সহায়তায় বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ তদন্ত করছে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা।

সংস্থাটির ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে তীব্র হয়েছে এবং রোহিঙ্গা, রাখাইন ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন পক্ষের সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর প্রাণঘাতী বিমান হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা নিয়মিত হয়ে উঠেছে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে সামরিক জান্তা দমনমূলক কর্মকাণ্ড বাড়িয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নাগরিকদের ওপর নজরদারিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির কথাও বলা হয়েছে। 

মিয়ানমারের ভয়াবহ মানবাধিকার পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। তিনি বলেছেন, দেশটির সাধারণ মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ ও নির্মমতার যে চিত্র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

একই সঙ্গে বিশ্বের রাষ্ট্র, বহুজাতিক কোম্পানি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মিয়ানমারের পরিস্থিতিতে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

মিয়ানমারে সহিংসতা ও নিপীড়ন অব্যাহত থাকায় এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকায় নতুন করে মানুষের পালিয়ে আসার ঝুঁকিও রয়েছে। 

জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলো বলছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ভেতরে সহিংসতা ও নিপীড়ন বন্ধ করে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের অবসান এবং রোহিঙ্গাসহ সব বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দেশটির মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।

ChannelNRB Footer