নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দেশটির উত্তরাঞ্চলের রাসুয়া জেলায় চীন সীমান্তের কাছে ভয়াবহ এই বন্যা আঘাত হানে। পরে বন্যার পানি ও স্রোত পার্শ্ববর্তী একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।
নেপালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম রাতোপাটির প্রতিবেদনে দেশটির পুলিশ মুখপাত্র ডিআইজি অভি নারায়ণ কাফলের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ১০০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলোর অনেকগুলো এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে নেপাল পুলিশ ৯৫ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল। একই সময়ে শত শত মানুষ নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া যায়। উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় বরফ, পাথর ও মাটির বিশাল ধস নদীতে পড়ে আকস্মিক পানির প্রবাহ তৈরি করে। এর প্রভাবে ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ ঢল নামে এবং মুহূর্তের মধ্যে নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের বড় অংশ ভেঙে নিচের উপত্যকায় পড়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ও উষ্ণ আবহাওয়ার ভূমিকা ছিল কি না, তা বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখছেন।
ভয়াবহ স্রোতে রাসুয়া ও আশপাশের এলাকায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতির মুখে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতেও নানা সমস্যার মুখে পড়ছে।
বন্যায় শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নয়, পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরাও নিখোঁজ হয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৩৮৪ জন ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে; তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয়, মার্কিন, ব্রিটিশ, অস্ট্রেলীয় ও মালয়েশীয় নাগরিকও রয়েছেন।
এদিকে অন্তত ২৮ জন নেপাল পুলিশ সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার ও অন্যান্য উপায়ে উদ্ধার অভিযান চলছে। নেপাল সরকার উদ্ধার তৎপরতায় ভারত ও চীনের সহায়তাও চেয়েছে।
নেপালের পার্বত্য অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বেশি। এবারের দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







