নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো সহস্রাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হঠাৎ করে প্রবল পানির স্রোত, কাদা, বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। এতে নদীসংলগ্ন জনপদ, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পকে এই দুর্যোগের কারণ মনে করা হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হিমালয়ের একটি বিশাল হিমবাহের নিচের অংশ ধসে পড়ার পর বরফ ও পাথরের বিপুল ভর উপত্যকায় নেমে আসে। এর ফলে নদীর প্রবাহে ভয়াবহ পরিবর্তন ঘটে এবং দ্রুতগতির পাহাড়ি ঢল সৃষ্টি হয়।
প্রবল স্রোত নেপালের রাসুয়া ও আশপাশের এলাকায় আঘাত হানে। একই সঙ্গে তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
দুর্যোগের পর নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরাও রয়েছেন। কৈলাস-মানস সরোবরগামী যাত্রী এবং বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের একটি অংশও নিখোঁজ তালিকায় রয়েছে।
নেপালের পক্ষ থেকে শত শত মানুষ নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছে। তিব্বত অঞ্চলেও শতাধিক মানুষের সন্ধান মিলছে না। উদ্ধারকারী দল দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়ক ও সেতু এবং প্রতিকূল পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলেছে।
নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলা দল উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের পাশাপাশি আহতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিকভাবেও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
দুর্যোগের পর নদীগুলোতে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় নতুন করে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
উদ্ধারকাজ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র আরও পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের দুর্গত এলাকাগুলোতে মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: Reuters
আরও পড়ুন:







