ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত নেপালকে জরুরি মানবিক সহায়তা হিসেবে ৫ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলা ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য একজন দুর্যোগ response adviser নেপালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। এতে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।
নেপালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ৫ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এই অর্থ দুর্গত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এবং ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করতে ব্যবহৃত হবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একজন দুর্যোগ মোকাবিলা পরামর্শক নেপালে পাঠানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাও নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভারত জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশন নেপাল রেডক্রসের কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ বরাদ্দ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী ও বহুমুখী তাঁবু পাঠিয়েছে।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালে অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চল মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৭০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান পুনরায় জোরদার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দুর্গম এলাকায় কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে আরও মরদেহ থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, হিমালয়ের একটি হিমবাহের নিচের অংশ ধসে পড়ার পর বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নদী উপত্যকায় নেমে আসে। এর ফলে লহেন্দে খোলা নদীতে পানির প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রবল স্রোতে সড়ক, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্যোগের পর নেপালের উদ্ধারকারী দলগুলো হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করার পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় জরুরি খাদ্য, চিকিৎসাসামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ১২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন।
তবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়ক ও অবকাঠামোর কারণে অনেক এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে হেলিকপ্টারনির্ভর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহায়তার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫ লাখ ডলারের সহায়তার পাশাপাশি ভারত, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক রেডক্রস-রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলন নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করছে।
উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে নিখোঁজদের সন্ধান, দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই নেপাল সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







