চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং। বৃহস্পতিবার তিনি তিব্বতের গিরং কাউন্টির দুর্যোগকবলিত এলাকায় গিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকি করেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার বরাতে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে গিরং এলাকায় পৌঁছান। সেখানে তিনি জরুরি উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপ পর্যালোচনা করেন। একই সঙ্গে উদ্ধারকর্মী ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
বুধবার নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে তিব্বতের গিরং এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে, তিব্বতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
গিরং বন্দরসংলগ্ন বেশ কয়েকটি এলাকার ৩০০-এর বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে চীনের বিভিন্ন সংস্থার উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হিমালয়ের একটি হিমবাহের বরফ ও পাথরের বড় অংশ ধসে পড়ার পর নদীতে ব্যাপক ধসজনিত প্রবাহ তৈরি হয়। এর ফলে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও কাদামাটির প্রবল স্রোত নেমে আসে। এতে সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে গিরংয়ের উজানে একটি বাধাগ্রস্ত হ্রদের পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করছে। অতিরিক্ত পানি জমে থাকায় সেখানে নতুন করে বন্যা বা ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
এই দুর্যোগের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে নেপালেও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করছে।
দুর্যোগের কারণে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমও কঠিন হয়ে পড়েছে। দুই দেশেই হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







