নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও হিমবাহজনিত দুর্যোগের পর এবার ঝুঁকিতে পড়েছে ভারতের সীমান্তবর্তী দুই রাজ্য। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিহার ও উত্তর প্রদেশে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী—এনডিআরএফকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নেপালের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ দ্রুত বেড়েছে। এর প্রভাব ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গণ্ডক নদীর পানির প্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নেপালের আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বিহার ও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। দুই রাজ্যের সীমান্তবর্তী ও নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত এনডিআরএফ দলও মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভারতের দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, নেপাল থেকে অতিরিক্ত পানি নেমে এলে সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় নেপালের বন্যার কোনো বড় ধরনের বিরূপ প্রভাবের খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নদীর পানির প্রবাহ ও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এরই মধ্যে নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ার পর সৃষ্ট প্রবল পানির প্রবাহ থেকেই ভয়াবহ বন্যা ও কাদামাটির স্রোতের সূত্রপাত। এতে বহু মানুষ নিহত ও নিখোঁজ হয়েছেন।
দুর্যোগে সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় নেপাল ও তিব্বতের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ভারতীয় এলাকাতেও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রধান উদ্বেগ এখন নেপাল থেকে নেমে আসা অতিরিক্ত পানির সম্ভাব্য প্রভাব। বিশেষ করে গণ্ডক অববাহিকার নদীগুলোর পানির স্তর ও প্রবাহের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর প্রশাসনকে জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) নিয়মিতভাবে বিভিন্ন রাজ্যের জন্য আবহাওয়া ও আকস্মিক বন্যার সতর্কতা প্রকাশ করছে। ২৭ আগস্টের সর্বশেষ বুলেটিনেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে বলা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন:







