News Ticker
সর্বশেষ
অর্থসংকটে থমকে যাওয়া চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে ফাতেমার পাশে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায়: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব এলে সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ৮ হাজার মুসলমান হত্যার নেতৃত্ব দেওয়া ‘বসনিয়ার কসাই’ রাটকোর মৃত্যু সালমান শাহ হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে ডন বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে একযোগে কাজ করছে: চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে নিহত বেড়ে ৩৩২
221.png

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে নিহত বেড়ে ৩৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:১০

আপডেট: ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২৭

শেয়ার

শেয়ার

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে নিহত বেড়ে ৩৩২
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার হিমালয়সংলগ্ন নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক এই বন্যার পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন।

নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান, গোরখা, তানাহুন এবং নওয়ালপরাসি এলাকায় ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা চলছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।

বন্যার পর নেপালে ৮২৬ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না—এমন তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটক, তীর্থযাত্রী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকশ বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

তবে নিখোঁজের সংখ্যা ও মৃতের সংখ্যা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন মরদেহ উদ্ধারের খবর আসছে এবং একই সঙ্গে অনেক নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানও পাওয়া যাচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের উজানে বরফ, পাথর ও মাটির বিশাল অংশ ধসে নদীতে পড়ে আকস্মিক পানির প্রবল স্রোত তৈরি হয়। সেই স্রোত ভুটে কোশি নদী হয়ে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় নেমে আসে।

প্রবল স্রোতে নদীর তীরবর্তী বসতি, সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। রসুয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।

নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক ও সেতুর কারণে অনেক এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এদিকে বন্যার পরও নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলোকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালাতে হচ্ছে।

একই দুর্যোগের প্রভাবে চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে সেখানে অন্তত তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এই দুর্যোগে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

দুর্যোগের পর উজানে একটি বাধাগ্রস্ত হ্রদ (barrier lake) তৈরি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সেটি ভেঙে গেলে নতুন করে পানির প্রবল স্রোত নিচের দিকে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নদী অববাহিকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

নেপালজুড়ে এখন নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাবার, পানি, চিকিৎসা ও জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিতে কাজ করছে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও উদ্ধারকারী দল।

সূত্র: নেপাল নিউজ

ChannelNRB Footer