News Ticker
সর্বশেষ
অর্থসংকটে থমকে যাওয়া চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে ফাতেমার পাশে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায়: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব এলে সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ৮ হাজার মুসলমান হত্যার নেতৃত্ব দেওয়া ‘বসনিয়ার কসাই’ রাটকোর মৃত্যু সালমান শাহ হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে ডন বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে একযোগে কাজ করছে: চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে নিহত বেড়ে ৩৩২
221.png

৮ হাজার মুসলমান হত্যার নেতৃত্ব দেওয়া ‘বসনিয়ার কসাই’ রাটকোর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২০:১২

আপডেট: ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২০:২৮

শেয়ার

শেয়ার

৮ হাজার মুসলমান হত্যার নেতৃত্ব দেওয়া ‘বসনিয়ার কসাই’ রাটকোর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

বসনিয়া যুদ্ধের কুখ্যাত সামরিক কমান্ডার এবং গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রাটকো ম্লাদিচ মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের একটি কারাগার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮৪ বছর। সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএস প্রথম তার মৃত্যুর খবর জানায়; পরে জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

‘বসনিয়ার কসাই’ নামে পরিচিত ম্লাদিচ ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলা বসনিয়া যুদ্ধের সময় বসনিয়ান সার্ব বাহিনীর প্রধান সামরিক কমান্ডার ছিলেন। তার বাহিনীর বিরুদ্ধে বসনিয়াক মুসলিম ও ক্রোয়াটদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, নিপীড়ন, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং জাতিগত নির্মূল অভিযান চালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়। 

ম্লাদিচের নাম সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে আছে ১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার সঙ্গে। ওই বছরের জুলাইয়ে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘নিরাপদ এলাকা’ স্রেব্রেনিৎসা দখলের পর বসনিয়াক মুসলিম পুরুষ ও কিশোরদের ব্যাপকভাবে হত্যা করা হয়। আন্তর্জাতিক আদালত ও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের নথি অনুযায়ী, সেখানে ৮ হাজারের বেশি বসনিয়াক মুসলিম পুরুষ ও কিশোর নিহত হন। ঘটনাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ নৃশংসতাগুলোর একটি এবং আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃত। 

হত্যাকাণ্ডের পর নিহতদের মরদেহ গণকবর দেওয়া হয়। পরে প্রমাণ গোপন করার উদ্দেশ্যে কিছু মরদেহ এক গণকবর থেকে তুলে প্রত্যন্ত এলাকায় অন্য গণকবরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। 

স্রেব্রেনিৎসার পাশাপাশি বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ ও গোলাবর্ষণেও ম্লাদিচের বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা অবরোধে শহরটিতে কামান, মর্টার, ট্যাংক ও স্নাইপার হামলায় বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষ নিহত হন।

ম্লাদিচের বিরুদ্ধে জাতিগত নিপীড়ন, হত্যা, নির্বাসন, জোরপূর্বক স্থানান্তর, বেসামরিক জনগণের মধ্যে সন্ত্রাস সৃষ্টি এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের জিম্মি করার মতো অভিযোগও আনা হয়েছিল। 

১৯৯৫ সালে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ম্লাদিচ দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন। প্রায় ১৬ বছর পলাতক থাকার পর ২০১১ সালের মে মাসে সার্বিয়ার একটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে দ্য হেগে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের হেফাজতে নেওয়া হয়। 

২০১৭ সালে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICTY) তাকে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ২০২১ সালে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট আপিল কাঠামোও তার যাবজ্জীবন সাজা বহাল রাখে। 

কারাগারে থাকার সময় ম্লাদিচের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি একাধিক গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। তার পরিবার ও সমর্থকেরা স্বাস্থ্যগত কারণে তাকে সার্বিয়ায় স্থানান্তর বা মুক্তির আবেদন করলেও তা অনুমোদিত হয়নি।

ম্লাদিচের মৃত্যু বসনিয়া যুদ্ধের অন্যতম কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর জীবনের অবসান ঘটাল। তবে স্রেব্রেনিৎসা ও বসনিয়া যুদ্ধের ক্ষত এখনো বহন করে চলেছেন নিহতদের স্বজন ও বেঁচে থাকা মানুষজন। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় ম্লাদিচের দণ্ডকে ওই নৃশংসতার জন্য জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হয়।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer