News Ticker
221.png

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহত বেড়ে ৪৭৫

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:২২

শেয়ার

শেয়ার

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহত বেড়ে ৪৭৫
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দেশটির চীন সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলে ভোটেকোশী নদীতে আকস্মিক পানির স্রোত নেমে আসার পর এই বিপর্যয় ঘটে। বন্যার পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ভেসে গেছে।

নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৪৭৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলার চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ পানির ঢল নামে। ভোটেকোশী নদীর ওপর দিয়ে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোত দ্রুত নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিংসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

বন্যার স্রোতে বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যায়। অনেক এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়া মানুষ ও যানবাহনের সন্ধানে এখন নদীর নিম্নাঞ্চলেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। 

বন্যার পর বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক, ট্রেকার ও তীর্থযাত্রীরাও রয়েছেন।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৬৬৭ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ ছিলেন, যাদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালের নাগরিক। কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবস্থান যাচাই এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। 

বন্যায় রাস্তা ও সেতু ধ্বংস হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা হেলিকপ্টার ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

তবে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় কিছু এলাকায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে ভূমিধসের কারণে পানি আটকে একটি হ্রদসদৃশ জলাধার তৈরি হয়েছে। সেটি উপচে পড়ায় downstream এলাকায় নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। 

প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, হিমালয় অঞ্চলে একটি হিমবাহ বা বরফ-পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ার পর নদীর প্রবাহে আকস্মিক পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, একটি হিমবাহের নিচের অংশ ভেঙে পড়ার ঘটনা এই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সূচনা করতে পারে। তবে ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা নিয়ে আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন। 

উজানে পানি আটকে তৈরি হওয়া জলাধার উপচে পড়ায় নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দুই দেশই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে নদীর নিম্নপ্রবাহ ও আশপাশের ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

নেপালের সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপুল প্রাণহানির পাশাপাশি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং নতুন করে বন্যার আশঙ্কার কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধান এবং মরদেহ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নদী তীরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer